জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তিনটি অভিযোগে তাঁকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তাঁর দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগেও তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলায় ইনুই ছিলেন একমাত্র আসামি। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথি, তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও নথি উপস্থাপন করা হয়।
আন্দোলন দমনে উসকানির অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে তিনি বলপ্রয়োগে উসকানি দেন এবং ১৪ দলীয় জোটের নেতা হিসেবে আন্দোলন দমনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা ও সহায়তা করেন।
১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারির সিদ্ধান্তে তিনি ভূমিকা রাখেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ জুলাই ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনু আন্দোলন দমনের বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, গুলি, আটক ও নির্যাতনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সহযোগিতা করেন।
ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

