রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানান। আইএমএফের দেওয়া ঋণের শর্ত বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ২০২৬ সালের জুনে সংস্থাটির পূর্ববর্তী কর্মসূচি স্থগিত করে সরকার।
অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর অন্তত ৫০ বিলিয়ন (পাঁচ হাজার কোটি) ডলারের বৈশ্বিক ও দেশীয় মূলধন প্রয়োজন। আইএমএফ কিংবা একক কোনো বৈদেশিক সংস্থার থেকে প্রাপ্ত সীমিত ঋণ দিয়ে এই বিশাল চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বিধায় শেয়ারবাজার, বন্ড ও ইকুইটি মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিটের বড় বড় আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি, বাজার সংস্কার এবং স্বচ্ছতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বৈশ্বিক বাজার থেকে সরাসরি অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কে প্রস্তাবিত ‘ডলার বন্ড’ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করছে বাংলাদেশ।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং চড়া সুদের চাপ থেকে বের করে আনার তাগিদ দেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমিয়ে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার জোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে করদাতাদের টাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালানোর মানসিকতা থেকে বের হয়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ ও পুনর্পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তিনি। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের চেহারায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।

