রাঙামাটিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর চাষিরা জুমের ফসল কাটা শুরু করেছেন। তবে ফলন ক্রমেই কমে যাওয়ায় সারা বছরের খাদ্যসংস্থান নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও চাষিরা ধান কেটে মাড়াই করছেন, আবার কোথাও তিল, হলুদ ও ভুট্টা সংগ্রহ করে মজুত করছেন।
চাষিরা জানান, কয়েক বছর ধরেই জুমের ধানসহ অন্যান্য ফসলের ফলন কমছে। এতে অনেক পরিবার খাদ্য নিয়ে উদ্বেগে আছে। কাপ্তাইয়ের জুমচাষি ক্যাসিনু মারমা বলেন, একই জমিতে একই পরিমাণ বীজ বুনলেও গত কয়েক বছরে ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বরকল উপজেলার চাষি জ্ঞানময় চাকমা বলেন, জুমের জমি আগের মতো উর্বর নেই, প্রতিবছর ফলন কমছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রাঙামাটির ১০ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুমচাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১০ হাজার টন। কর্মকর্তারা জানান, এ বছর মোট উৎপাদন কত হলো, তা নির্ধারণ করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। ২০২৫ সালে জেলায় ৪ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জুমের জমিতে ৭ হাজার ৪৩৭ টন ফসল উৎপাদিত হয়েছিল।
রাঙামাটিতে ডিএইর উপপরিচালক মোহাম্মদ মোমিনুজ্জামান বলেন, এক চক্র চাষের পর পাহাড় ১০ থেকে ১৫ বছর পতিত রাখলে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব। কিন্তু রাঙামাটির অনেক পাহাড়ে মাত্র তিন-চার বছর পরই আবার চাষ করা হচ্ছে, আবার কোনো কোনোটি এক বছরও পতিত রাখা হচ্ছে না। এতে মাটি জৈব পদার্থ ও উর্বরতা হারাচ্ছে, ফলে ফলন কমছে বলে তিনি জানান।
জুম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতি। চাষিরা সাধারণত মার্চ-এপ্রিলে পাহাড়ের ঢালে জমি পরিষ্কার করে ধান, তিল, ভুট্টা ও সবজির বীজ বোনেন। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফসল কেটে, শুকিয়ে মজুত করেন। অনেক পরিবার সারা বছর এই ফসলের ওপর নির্ভর করে।

