Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, নভে. 1, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মানুষ কেন ট্যাক্স দেবে, যদি না জানে টাকাটা কোথায় যাচ্ছে
    অর্থনীতি

    মানুষ কেন ট্যাক্স দেবে, যদি না জানে টাকাটা কোথায় যাচ্ছে

    রাকিবুল ইসলামUpdated:অক্টোবর 31, 2026অক্টোবর 31, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    গত অর্থবছরে (২০২৫ থেকে ২০২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। অথচ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে কর জিডিপি অনুপাত ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই হিসাব শুধু এনবিআরের আদায়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। অন্য সংস্থার রাজস্ব ও করবহির্ভূত আয় যোগ হলে অনুপাতটি কিছুটা বদলাতে পারে।

    তবু মূল চিত্রটি স্পষ্ট। দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় সরকারের রাজস্ব বাড়ছে না। বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবা জরুরি, কারণ বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করে উন্নয়ন ব্যয় চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে কমে আসছে।

    কর জিডিপি অনুপাত কত হওয়া প্রয়োজন

    কর জিডিপি অনুপাত কথাটি জটিল মনে হলেও এর হিসাব সহজ। একটি দেশে এক বছরে মোট যত আয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়, তার তুলনায় সরকার কত টাকা কর আদায় করে, সেটিই এই অনুপাত দিয়ে বোঝানো হয়। সহজ করে বললে, দেশে মোট ১০০ টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হলে এনবিআরের হিসাবে সরকার কর পায় প্রায় ৬ টাকা ৭৮ পয়সা।

    সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত ৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। এরপর তা আবার কমে যায়। সিপিডির উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, ভারতে এই অনুপাত প্রায় ২১ শতাংশ, নেপালে ১৯ শতাংশ, ভুটানে ১৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১১ শতাংশ। দেশভেদে হিসাবের পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যানকে সরাসরি তুলনার বদলে সামগ্রিক চিত্র বোঝার উপায় হিসেবে দেখা উচিত।

    তাহলে কর জিডিপি অনুপাত কত হওয়া প্রয়োজন? বিশ্বব্যাংক ১৫ শতাংশকে একটি বহুল আলোচিত মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে। অন্যদিকে, আইএমএফের গবেষক গ্যাসপার, জারামিলো ও উইনজেন্ডারের গবেষণায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরার সীমা পাওয়া গেছে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশে। তাঁদের হিসাবে, এই সীমা অতিক্রম করা দেশগুলোর মাথাপিছু আয় দশ বছর পর তুলনামূলকভাবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি দেখা যায়। এটি কোনো অবধারিত ফল নয়, তবে রাজস্ব বাড়ানোর গুরুত্ব বোঝায়। বাংলাদেশের বর্তমান অনুপাত সেই সীমার চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।

    প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, তবু রাজস্ব পিছিয়ে কেন?

    অনেকের ধারণা, অর্থনীতি বড় হলেই সরকারের রাজস্ব স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। বাস্তবে বাংলাদেশে তা হচ্ছে না। সরকারি হিসাবে, গত দশ বছরে রাজস্বের গড় বুয়্যান্সি ছিল মাত্র ০ দশমিক ৯৩। সহজভাবে বললে, জিডিপি ১ শতাংশ বাড়লে রাজস্ব বেড়েছে গড়ে প্রায় ০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব বাড়েনি।

    গত অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। তারপরও কর জিডিপি অনুপাত বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ০৮ শতাংশ পয়েন্ট। এতে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও করব্যবস্থার আওতা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

    তবে সমস্যার ব্যাখ্যায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ব্যবসা খারাপ অবস্থায় থাকায় রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। এনবিআরের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক না হলে রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন। এই যুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অর্থনৈতিক দুরবস্থার পাশাপাশি করব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে। তাই শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর করের হার বাড়িয়ে সমাধান খোঁজার বদলে নতুন করদাতাদের করজালের আওতায় আনা জরুরি।

    নতুন প্রতিশ্রুতি আর পুরোনো দেনা প্রায় পাশাপাশি চলছে

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে নতুন বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়েছে রেকর্ড ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

    অর্থাৎ, নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি কমছে, অথচ পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। এর ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ছিল সহজ শর্তের ঋণ। কিন্তু এই ধরনের সুবিধাজনক অর্থায়ন ভবিষ্যতে কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও সতর্ক করেছে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সহজ শর্তের অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক সুবিধা হারাতে পারে। উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। তবে বাংলাদেশ সরকার তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নেবে। সময়সূচি যাই হোক, দীর্ঘমেয়াদে সস্তা ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাচ্ছে। সেই নির্ভরতা কমাতে হলে দেশের নিজস্ব রাজস্ব বাড়াতে হবে।

    আস্থার সংকট দুই দিকেই আছে

    রাজস্ব আদায়ের সমস্যাটি কোথায়, তা বুঝতে করজালের দিকে তাকানো প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের করের হার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় সমান, কিছু ক্ষেত্রে বেশিও। অর্থাৎ, সমস্যা শুধু করের হার কম হওয়া নয়। করব্যবস্থার কাঠামো, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাও বড় কারণ।

    ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের টিন ছিল। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন মাত্র ৪৬ লাখ মানুষ। অর্থাৎ, টিনধারীদের প্রতি ১০ জনে প্রায় চারজন রিটার্ন দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

    কোম্পানির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর মাত্র ৯ শতাংশ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছিল। ফলে যারা নিয়মিত কর দেন, তাঁদের ওপরই তুলনামূলক বেশি চাপ পড়ে।

    এর বাইরে রয়েছে বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। সরকারি হিসাবে, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ৪৩ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। অথচ এই খাতের বড় অংশ কার্যকর করজালের বাইরে। সিপিডির হিসাবে, দেশে কর ফাঁকির পরিমাণ ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। তুলনায়, এনবিআর ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। অর্থাৎ, সম্ভাব্য কর ফাঁকির অঙ্কটি আদায় করা রাজস্বের তুলনায়ও অনেক বড়।

    ভ্যাট ব্যবস্থাতেও জটিলতা রয়েছে। সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, জরিপ করা ৭৪টি দেশের মধ্যে মাত্র দুটি দেশে পাঁচ স্তরের ভ্যাট ব্যবস্থা রয়েছে, বাংলাদেশ তার একটি। একাধিক স্তর ও জটিল নিয়মের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং করদাতাদের জন্য এই ব্যবস্থা অনুসরণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    কর ফাঁকি নিয়ে এনবিআরের তৎকালীন চেয়ারম্যানও গত বছরের আগস্টে বলেছিলেন, কর আইনজীবী, হিসাবরক্ষক এবং এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সমস্যাটি শুধু করদাতাদের অনিয়মে সীমাবদ্ধ নয়। করব্যবস্থার ভেতরেও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। অনেক করদাতা রাষ্ট্রকে আস্থা করতে পারছেন না, আবার রাষ্ট্রের নিজের ব্যবস্থার ওপরও পুরোপুরি ভরসা করার সুযোগ নেই।

    মানুষ কেন ট্যাক্স দেবে, যদি না জানে টাকা কোথায় যাচ্ছে?

    কর দেওয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা দেওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতিতে একে বলা হয় ‘ফিসকাল কন্ট্রাক্ট’ বা রাজস্ব চুক্তি। এর মূল ধারণা হলো, নাগরিক রাষ্ট্রকে কর দেবেন, আর বিনিময়ে রাষ্ট্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করবে।

    ওইসিডির কর দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারের ওপর মানুষের আস্থা যত বেশি, স্বেচ্ছায় কর দেওয়ার আগ্রহও সাধারণত তত বেশি। দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে মানুষের ধারণা সেই আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের তথ্যেও সরকারি সেবায় সন্তুষ্টির সঙ্গে কর দেওয়ার ইচ্ছার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে লাতিন আমেরিকার ক্ষেত্রে সম্পর্কটি ততটা স্পষ্ট নয়। অর্থাৎ, ভালো সুশাসনই রাজস্ব বাড়ানোর একমাত্র উপায় নয়, কিন্তু কার্যকর করব্যবস্থার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ভিত্তির দুর্বলতা বোঝা যায় সরকারি ব্যয়ের হিসাবেও। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব ছিল জিডিপির মাত্র ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর ৭৬ শতাংশ চলে যায় অপরিহার্য ব্যয়ে। ফলে অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ২৪ শতাংশ। ভর্তুকিতেই ব্যয় হয় কর রাজস্বের ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, সড়ক, হাসপাতাল ও স্কুলের মতো জনসেবামূলক উন্নয়ন খাতে ব্যয় জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

    এখানে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি ব্যবধান রয়েছে। মানুষ কর দিয়ে উন্নত সড়ক, কার্যকর হাসপাতাল, ভালো স্কুল এবং সহজে পাওয়া যায় এমন সরকারি সেবা চান। অথচ এসব সেবার উন্নয়নে ব্যয় করার মতো অর্থ সীমিত। রাষ্ট্রের আয় কম হলে প্রয়োজনীয় জনসেবা বাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

    অর্থনীতিবিদ আদম স্মিথ ১৭৭৬ সালে করব্যবস্থার চারটি মূলনীতি তুলে ধরেছিলেন। কর হতে হবে ন্যায্য, নিয়ম হতে হবে স্পষ্ট, কর পরিশোধের পদ্ধতি সহজ হতে হবে এবং কর আদায়ের প্রশাসনিক খরচ কম রাখতে হবে। বাংলাদেশের করব্যবস্থায় জটিল নিয়ম, অনিশ্চিত নিরীক্ষা এবং করদাতাদের হয়রানির অভিযোগ এসব নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই কর আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রাজস্বের ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    শাস্তি আর জবাবদিহি: দুটোই লাগবে, কিন্তু কোনটা আগে?

    যাঁরা কর ফাঁকি দেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি যৌক্তিক। কারণ একদল করদাতা নিয়ম মেনে কর দিলেও অন্যরা ফাঁকি দিলে সৎ করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সিপিডিও বলেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কম কর দেওয়ার সুযোগ রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ফাঁক তৈরি করছে।

    তবে শুধু শাস্তি বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে, তা নিশ্চিত নয়। করব্যবস্থার প্রতি আস্থা কম থাকলে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করদাতাদের আরও অনানুষ্ঠানিক পথে ঠেলে দিতে পারে। আবার সাধারণ করদাতারা হয়রানির শিকারও হতে পারেন। তাই কর ফাঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি করব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা প্রয়োজন।

    প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, টিআইএনধারীদের মধ্যে যাঁরা রিটার্ন দেন না, তাঁদের নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়ার আওতায় আনা। সিপিডিও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ভ্যাটের স্তর কমানো এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা চালু করা প্রয়োজন, যাতে নিয়ম মেনে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং নিরীক্ষা যথাযথ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত করা যায়।

    তৃতীয়ত, রাজস্বের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের বোঝার মতো করে নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। কত অর্থ সড়কে, কত স্বাস্থ্য ও শিক্ষায়, আর কত ভর্তুকিতে যাচ্ছে, সেই হিসাব সহজভাবে জানানো হলে নাগরিকেরা করের বিনিময়ে রাষ্ট্রের সেবার বিষয়টি বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি কর ফাঁকি শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

    শেষ পর্যন্ত, করব্যবস্থায় আস্থা তৈরি করতে হলে রাষ্ট্র ও করদাতা, উভয় পক্ষের জবাবদিহি প্রয়োজন। রাষ্ট্রকে যেমন রাজস্বের প্রতিটি টাকার ব্যবহার সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও আইন অনুযায়ী নিজেদের করের হিসাব দিতে হবে। বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ কতটা আর্থিকভাবে শক্তিশালী হতে পারবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই আস্থা ও জবাবদিহির সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর।

    রাকিবুল ইসলাম
    রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    টাকার অতিমূল্যায়নে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা বাংলাদেশের

    নভেম্বর 1, 2026
    অর্থনীতি

    জাপানের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: প্রতিশ্রুতির চেয়ে বড় পরীক্ষা বাস্তবায়নে

    নভেম্বর 1, 2026
    আইন আদালত

    সরকারি আদেশে বিচারক যাচ্ছেন নির্বাহী দপ্তরে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কি হুমকির সম্মুখীন?

    নভেম্বর 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.