স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও রপ্তানি বহুমুখী করার তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (১১) সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে, যেখানে উত্তরণ পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, বাড়তি তিন বছর বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে যেতে সহায়তা করবে, যেখানে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আংশিকভাবে এলডিসি-সুবিধার ওপর নির্ভর না করে উৎপাদনশীলতা, মান, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ওপর দাঁড়াবে।
সাম্প্রতিক প্রাক্কলনের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রায় ৭৩ শতাংশ এলডিসি-সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যসুবিধা পায়। এসব ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হলে, প্রতিটি বাজারের নিজস্ব উত্তরণকালীন নিয়ম সাপেক্ষে, রপ্তানিকারকদের উচ্চ শুল্ক ও আরও কঠোর রুলস অব অরিজিনের মুখে পড়তে হতে পারে।
এই উত্তরণ সহজ করতে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাসের যোগ্যতার শর্ত পূরণে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাপান, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও আসিয়ানভুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা জোরদার করতে বলেন।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির ৮১ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক। এ প্রেক্ষাপটে কামাল ওষুধ, মেডিকেল প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের আহ্বান জানান।
অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে আইএমএফের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬.৯ শতাংশ। তিনি করভিত্তি সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর সম্মতি উন্নত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন জোরদার করার ওপর জোর দেন।
এসব পদক্ষেপ একসূত্রে গাঁথতে তিনি একটি সময়াবদ্ধ ও পরিমাপযোগ্য ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যার নেতৃত্বে থাকবে সরকার এবং যাতে বেসরকারি খাতের পরামর্শ নিয়মিতভাবে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, কৌশলের প্রথম বছরে খাতওয়ারি শুল্ক ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে, দ্বিতীয় বছরে কাস্টমস, জ্বালানি, লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি আনতে হবে এবং তৃতীয় বছরে ব্যবসাগুলোর প্রস্তুতি যাচাই করতে হবে।

