বাংলাদেশের স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানি ও তাদের সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, টেক্সটাইল মিল ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন তিনি। সফরে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূতের এ সফরের তথ্য জানানো হয়। দূতাবাসের বার্তা অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় তিনি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় শিল্পে সম্ভাবনাও বড়। মার্কিন কোম্পানি ও তাদের সরবরাহব্যবস্থা কীভাবে বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন করেন ক্রিস্টেনসেন। সেখানে একটি জাহাজ পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন শিপইয়ার্ড হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ পুনর্ব্যবহারে কর্মীদের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন অশুল্ক বাধা ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান ক্রিস্টেনসেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হলে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, মার্কিন কোম্পানির প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই লাভবান হতে পারবেন।

