মাসের শুরুতে হাতে আসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। সেখান থেকে বাসাভাড়া দিতে হয়, চাল-ডাল কিনতে হয়। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনার খরচও বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। মাসের বাকি দিনগুলো চালাতে গিয়ে কোন খরচ কমাতে হবে? বাজারের তালিকা ছোট করতে হবে, নাকি সন্তানের পড়াশোনার জন্য রাখা টাকা থেকে কিছু সরানো যাবে? বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের একজন সর্বনিম্ন গ্রেডের শ্রমিকের মাসিক মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের জীবনযাপনের হিসাব কষলে এমন প্রশ্নই সামনে আসে। শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে মাসিক ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি উঠেছে। এর মধ্যে আজ ১ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি বোর্ডও গঠন করেছে। চলুন হিসাব করে দেখি,বর্তমানের ১২ হাজার ৫০০ টাকার মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিকের মৌলিক প্রয়োজন কতটা পূরণ হচ্ছে? আর নতুন মজুরি নির্ধারণে কোন হিসাবগুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত?
১২ হাজার ৫০০ টাকার ভেতরে আসলে কী আছে?
প্রথমে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ১২ হাজার ৫০০ টাকা তৈরি পোশাকশিল্পের সব শ্রমিকের বেতন নয়। ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নন-ইপিজেড পোশাক কারখানার সর্বনিম্ন বা চতুর্থ গ্রেডের শ্রমিকের মোট মাসিক মজুরি এটি। এই গ্রেডে একজন সহকারী অপারেটরের মূল বেতন ৬ হাজার ৭০০ টাকা। বাড়িভাড়া ভাতা ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা। সব মিলিয়ে হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
অর্থাৎ পুরো ১২ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতন নয়। এর মধ্যে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাবারের জন্য আলাদা ভাতাও রয়েছে। এই কাঠামো বোঝা জরুরি, কারণ শুধু মূল বেতন দেখে একজন শ্রমিকের মোট মাসিক আয় বোঝা যায় না। আবার ভাতাগুলোকে বাড়তি আয় ভেবে নেওয়ারও সুযোগ নেই। এগুলোও পরিবারের নিয়মিত প্রয়োজন মেটানোর জন্যই বরাদ্দ। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সময় কাজ করলে যে অর্থ পাওয়া যায়, সেটি আলাদা। ফলে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার মজুরি আর অতিরিক্ত কাজ করে পাওয়া আয়ের মধ্যে পার্থক্য রাখা দরকার। কারণ প্রতিদিন অতিরিক্ত কাজ করে যে আয় হয়, সেটিকে পরিবারের নিয়মিত ও নিশ্চিত আয়ের অংশ ধরে বাজেট করা যায় না।
চারজনের সংসারে একজনের আয় কতটা যথেষ্ট?
শ্রমিকের মজুরি যথেষ্ট কি না, তা বোঝার জন্য শুধু বাজারের এক দিনের খরচ দেখলে হবে না। দেখতে হবে একটি পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, কতজন আয় করেন এবং তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজন মেটাতে কত টাকা লাগে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আঙ্কার রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২০২৫ সালে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের জন্য জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির একটি হিসাব প্রকাশ করেছে। গবেষণায় ঢাকার আশপাশের শিল্পাঞ্চলের একটি আদর্শ পরিবার ধরা হয়েছে চার সদস্যের, যেখানে গড়ে ১ দশমিক ৫৮ জন আয় করেন।
গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে এমন একটি পরিবারের মৌলিক কিন্তু সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য মাসে প্রয়োজন প্রায় ৩৯ হাজার ৭৬২ টাকা। পরিবারের গড় উপার্জনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় একজনের প্রয়োজনীয় মাসিক মজুরি দাঁড়ায় ২৫ হাজার ১৬৬ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ১২ হাজার ৬৬৬ টাকা। অন্যভাবে বললে, এই ন্যূনতম মজুরি গবেষণায় নির্ধারিত জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির প্রায় অর্ধেক।
ঢাকা শহরের জন্য একই গবেষণায় প্রয়োজনীয় মাসিক মজুরি আরও বেশি, ৩০ হাজার ৪৫৯ টাকা। সেখানে চার সদস্যের একটি পরিবারের মৌলিক কিন্তু সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ২২ টাকা। তবে এই হিসাবকে সরাসরি প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত মাসিক বাজেট মনে করা ঠিক হবে না। এটি একটি গবেষণাভিত্তিক মানদণ্ড, যেখানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও উপার্জনকারীর গড় সংখ্যা বিবেচনা করা হয়েছে। এটিও ২০২৫ সালের হিসাব, ২০২৬ সালের হালনাগাদ বাজারদর নয়। তবু পোশাকশিল্পের বড় অংশ যে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত, সে বিবেচনায় এই গবেষণা বর্তমান মজুরির সীমাবদ্ধতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দেয়। আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার, জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি কোনো সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি নয়। এটি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য গবেষকেরা যে আয়কে প্রয়োজনীয় মনে করেন, সেই হিসাব।
সংসারের টান পড়লে প্রথমে কমে কোন খরচ?
একটি পরিবারের খরচের তালিকা করলে দেখা যায়, খাবারই সব নয়। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল, যাতায়াত, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় পোশাকশ্রমিকদের ৭৬টি কারখানার তথ্য এবং ২২৮ জন শ্রমিকের ওপর জরিপ করা হয়েছিল। জরিপে শ্রমিক পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা পাওয়া যায় ৩ দশমিক ৭ জন। সে সময় একটি পরিবারের মানসম্মত খাদ্যতালিকার জন্য মাসে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫২৯ টাকা। কিন্তু জরিপে দেখা যায়, শ্রমিক পরিবারগুলো খাবারের পেছনে গড়ে খরচ করতে পারছে মাত্র ৯ হাজার ১৯৮ টাকা। অর্থাৎ গবেষণায় প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত খাদ্যব্যয়ের মাত্র ৫৬ শতাংশ মেটাতে পারছিল তারা।
এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ করার মতো। শ্রমিক পরিবারগুলো শুধু খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছিল না, পুষ্টিকর খাবার কেনার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, দুধ, ডিম, মাছ ও মাংসের মতো খাবারের পেছনে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম অর্থ ব্যয় করা হচ্ছিল। কোনো কোনো পরিবার দুধ বা ফল কেনাও বন্ধ রেখেছিল। অর্থাৎ আয় দিয়ে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে খাবারের পুষ্টিমানেও ছাড় দিতে হচ্ছিল।
একই গবেষণায় খাবারের বাইরের মাসিক খরচের মধ্যে বাড়িভাড়া ছিল ৪ হাজার ৭৬৫ টাকা, সন্তানের শিক্ষার পেছনে ২ হাজার ৬৫৩ টাকা, চিকিৎসায় ১ হাজার ৩৭৮ টাকা এবং যাতায়াতে ১ হাজার ২০১ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের জরিপের তথ্য। তখন নতুন ১২ হাজার ৫০০ টাকার মজুরি কাঠামো কার্যকর হয়নি। তাই এই অঙ্কগুলোকে বর্তমান বাজারদরের হিসাব হিসেবে নেওয়া যাবে না। বরং এগুলো দেখায়, একজন শ্রমিকের পরিবারের খরচ কতগুলো খাতে ভাগ হয়ে যায় এবং আয় কম হলে খাবারের মতো জরুরি প্রয়োজনেও কীভাবে কাটছাঁট করতে হয়।
অতিরিক্ত কাজ না করলে কি সংসার চলে?
মজুরি আলোচনায় আরেকটি বিষয় প্রায়ই সামনে আসে, তা হলো অতিরিক্ত সময় কাজ বা ওভারটাইম। অনেক শ্রমিকের মাসিক আয় ওভারটাইমের কারণে বেড়ে যায়। কিন্তু এই বাড়তি অর্থের ওপর নির্ভর করেই যদি পরিবারের বাজেট তৈরি করতে হয়, তাহলে আয় কতটা নিশ্চিত থাকে, সেই প্রশ্ন থেকে যায়। কারখানায় অর্ডার কম থাকলে বা অতিরিক্ত কাজের সুযোগ না থাকলে আয়ও কমে যেতে পারে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট এবং স্টিচ কনসোর্টিয়ামের যৌথ গবেষণায় ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ১১৩ জন শ্রমিকের তথ্য নেওয়া হয়। সেখানে জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ওভারটাইম ছাড়া ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৬৪৭ টাকা। ওভারটাইমসহ তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত কাজ থেকে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা বেশি আসছিল। তবে এই গড় আয় বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিকদের মিলিয়ে পাওয়া, সর্বনিম্ন গ্রেডের মজুরি নয়। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকের আয় বাড়ালেও অনেক পরিবারের আর্থিক হিসাবের জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ ওভারটাইমের সুযোগ কারখানার কাজ ও অর্ডারের ওপর নির্ভর করে। ফলে নিয়মিত জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে মূল মজুরি কতটা যথেষ্ট, সেটিই আসল প্রশ্ন।
গেজেটে মজুরি থাকলেই কি শ্রমিক সেই টাকা পান?
মজুরি কত নির্ধারণ করা হলো, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো কারখানাগুলো তা ঠিকভাবে দিচ্ছে কি না। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় ৩৮৫টি কারখানার তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নন-ইপিজেড কারখানাগুলোর ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ নতুন মজুরি কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। বাকি ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ কারখানায় তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আবার জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নির্ধারিত মজুরির চেয়ে কম পাচ্ছেন। এগুলো জরিপে অংশ নেওয়া কারখানা ও শ্রমিকদের তথ্য, দেশের প্রতিটি কারখানার চিত্র নয়। কিন্তু বাস্তবায়নের সমস্যা যে রয়েছে, তা বোঝার জন্য এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে শুধু মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেই হবে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা ঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, অভিজ্ঞতা অনুযায়ী গ্রেড পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং ওভারটাইমের হিসাব সঠিক কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ ঘোষিত মজুরি আর শ্রমিকের হাতে পৌঁছানো মজুরি এক না হলে নতুন কাঠামোর সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
শ্রমিকের মজুরি বাড়লে কারখানার হিসাব কোথায় দাঁড়াবে?
এবার মালিকপক্ষের দিকটাও দেখা দরকার। তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ, কাঁচামালের দাম এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া পণ্যমূল্য সবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকের মজুরি বাড়লে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সেই ব্যয়ের পুরোটা মালিকের ওপর চাপবে, নাকি ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যের দাম বাড়িয়ে কিছুটা সমন্বয় করা সম্ভব, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সিপিডির ২০২৩ সালের শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরিপে দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের একক উৎপাদন ব্যয় বেড়েছিল ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কিন্তু ওই পণ্যের বিক্রয়মূল্য বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধির সঙ্গে পণ্যের দাম একই হারে বাড়েনি। এটি সব কারখানার লাভ বা লোকসানের চিত্র নয়, তবে ক্রেতার কাছ থেকে মূল্য আদায়ের সীমাবদ্ধতা বোঝায়।
এ কারণেই মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকের জীবনযাত্রার ব্যয় ও কারখানার সক্ষমতা দুটোই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৪১ ধারায় মজুরি বোর্ডকে জীবনযাত্রার ব্যয়, জীবনযাপনের মান, উৎপাদন ব্যয়, উৎপাদনশীলতা, পণ্যের দাম, মূল্যস্ফীতি, কাজের ধরন ও ঝুঁকি এবং ব্যবসার সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আইন নিজেই বলছে, মজুরি নির্ধারণ শুধু শ্রমিকের দাবি বা মালিকের ব্যয় দিয়ে ঠিক করা যাবে না। দুই পক্ষের বাস্তবতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে সবচেয়ে জরুরি হিসাব
আজ ১ নভেম্বর সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের একটি প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা। এই দাবির যৌক্তিকতা বা চূড়ান্ত মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন বোর্ডের। তবে সিদ্ধান্ত যেন কেবল একটি অঙ্কে সীমাবদ্ধ না থাকে। একটি পরিবারের গড় সদস্যসংখ্যা কত, সেখানে কয়জন আয় করেন, খাবার ও বাসাভাড়ার ব্যয় কত, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য কত টাকা প্রয়োজন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা দরকার। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, কারখানার উৎপাদনশীলতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া মূল্য এবং ছোট কারখানার আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
আমার কাছে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় দুটি বিষয়। প্রথমত, জীবনযাপনের প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত মজুরি সব কারখানায় কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গেজেটে একটি অঙ্ক ঘোষণা করলেই শ্রমিকের জীবন বদলে যায় না। সেই টাকা নিয়মিত হাতে পৌঁছানো এবং তা দিয়ে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি হওয়াও জরুরি।
১২ হাজার ৫০০ টাকা একটি আইননির্ধারিত সর্বনিম্ন মজুরি। কিন্তু আইনসম্মত মজুরি আর একটি পরিবারের সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট আয় এক বিষয় নয়। নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে তাই শুধু শ্রমিক কত টাকা চাইছেন বা মালিক কত টাকা দিতে পারবেন, সেই প্রশ্ন থাকলে চলবে না। প্রশ্ন হওয়া উচিত, বর্তমান বাজারদরে একজন শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত টাকা দরকার, আর সেই অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে টেকসই করা যায়। কারণ মাসের শেষে হিসাব না মেলা শুধু একজন শ্রমিকের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের জীবনমান, উৎপাদনশীলতা এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

