বাজারে পণ্যের উচ্চ দামে ক্রেতারা অস্বস্তিতে থাকলেও উত্তরের জেলাগুলোতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি ও ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। কিছুদিন আগে পঞ্চগড়ে এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন কৃষকরা। এবার দিনাজপুরে কলা চাষিরা প্রতি পিস কলার দাম পাচ্ছেন মাত্র ১ থেকে ২ টাকা।
পাইকাররা বলছেন, ঢাকায় উচ্ছেদ অভিযানের কারণে কলার চাহিদা কমে গেছে। এতে দাম পড়ে গেছে।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার সবখানেই কমবেশি কলার চাষ হয়। তবে বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহেরসাগর জাতের কলার আবাদ সবচেয়ে বেশি। কাহারোলের দশমাইলে ঢাকা-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় কলার পাইকারি হাট বসে। সেখান থেকে ট্রাকে করে কলা যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ফলে রাজধানীর বাজারের চাহিদা কমলে তার প্রভাব সরাসরি এ অঞ্চলের কৃষকদের ওপর পড়ে।
এ মৌসুমে কলার দাম আগেই কমতির দিকে ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত বছরের তুলনায় বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় কলার দাম কম, আর তাতে স্থানীয় চাষিরা কিছুটা লোকসানে পড়েছেন। শুধু কলা নয়, দিনাজপুরে সবজির বাজারেও একই চিত্র। গত ৩ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, সবজির দাম কমায় ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে চিন্তায় আছেন স্থানীয় চাষিরা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে হিমাগারের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলা নষ্ট হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কৃষকদের জন্য সমস্যা। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দাম পড়ে গেলেও কৃষকরা ফসল ধরে রাখতে পারেন না।

