দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে, তবে টানা পঞ্চম মাসেও তা তিন বিলিয়ন ডলারের সীমা ছুঁতে পারেনি। অক্টোবরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২.৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এই আয় ১২.১ শতাংশ বেশি।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ রয়ে গেছে। আমদানি ব্যয় মেটাতে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধে, বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
জুন থেকে প্রতি মাসেই প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে প্রবাসী কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থানে। এর ফলে দেশে অর্থ পাঠানোর সামর্থ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ায় বিনিময় হারেও চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের দর বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্রতি ডলারের ভারিত গড় আন্তব্যাংক বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৪.৩০ টাকা, যা আগে ছিল ১২৩.৯৯ টাকা।
তবে মাসিক আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের সামগ্রিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশে এসেছে ১১.৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১০.১৪৯ বিলিয়ন ডলার।
সেই হিসাবে চার মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১.৩১৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে আগের বছরের তুলনায় বেশি অর্থ এলেও আমদানি পরিশোধের বাড়তি চাহিদার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কাটছে না।

