বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুনে খাবার ছাড়া দৈনিক কৃষি মজুরি পুরুষদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও নারীদের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নারী কৃষিশ্রমিকেরা পুরুষদের চেয়ে ২৬ থেকে ২৯ শতাংশ কম মজুরি পেয়েছেন।
বিবিএসের “ত্রৈমাসিক ফসল পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রম মজুরি” প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খাবার ছাড়া পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক নগদ মজুরি মে মাসের ৭২০ টাকা থেকে কমে জুনে ৬৪৮ টাকায় নেমেছে। নারী শ্রমিকের মজুরি ৫১০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৪৭৮ টাকা। এতে জুনে নারী-পুরুষের দৈনিক আয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকা।
মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিটি মাসে এবং খাবারের সব ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষদের চেয়ে কম মজুরি পেয়েছেন।
খাবার ছাড়া মজুরির ক্ষেত্রে এপ্রিলে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ কম পেয়েছেন। ওই মাসে পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৬৮৬ টাকা, আর নারীর ৪৯৩ টাকা। মে মাসে এই ব্যবধান বেড়ে হয় ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ; তখন পুরুষ পেয়েছেন ৭২০ টাকা, নারী ৫১০ টাকা। জুনে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ২৩ শতাংশে।
পুরুষ শ্রমিকের মজুরি মার্চে ৬২৮ টাকা থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৬৮৬ ও মে মাসে ৭২০ টাকা হয়েছিল, পরে তা কমে যায়। নারীদের মজুরিও একই ধারায় মার্চে ৪৬১ টাকা থেকে এপ্রিলে ৪৯৩ ও মে মাসে ৫১০ টাকায় উঠে পরে কমেছে।
প্রতিবেদনে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশের কর্মজীবী মানুষের ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। মজুরির তথ্য সংগ্রহে বিবিএস প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন কৃষি দিনমজুরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মাসিক তথ্য নেয়। শ্রমিক না পাওয়া গেলে নিয়োগকারী কৃষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফসল উৎপাদনে মিশ্র প্রবণতাও দেখা গেছে। আলু ও গমের উৎপাদন কমলেও আমন ধান, ভুট্টা ও পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে।
আলুর উৎপাদন ২ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ১ কোটি ১৩ লাখ টনে নেমেছে। গমের উৎপাদন ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১০ লাখ ২৯ হাজার টন। অন্যদিকে আমন ধানের উৎপাদন ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ টন এবং শীতকালীন ভুট্টার উৎপাদন ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার টন হয়েছে।
পেঁয়াজের উৎপাদন ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছেছে। তামাকের আবাদি জমি ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাড়ায় এর উৎপাদনও ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টন হয়েছে।
সূত্র: নিউ এজ

