Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, নভে. 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সরকারি খরচ ৭৮ হাজার হলেও বাস্তবে গুনতে হয় ৫ লাখ: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের ভোগান্তি কি আদৌ কমেছে?
    অর্থনীতি

    সরকারি খরচ ৭৮ হাজার হলেও বাস্তবে গুনতে হয় ৫ লাখ: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের ভোগান্তি কি আদৌ কমেছে?

    রাকিবুল ইসলামUpdated:নভেম্বর 2, 2026নভেম্বর 2, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মালয়েশিয়ায় চাকরি পেতে সরকারের নির্ধারিত খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। অথচ বাস্তবে একজন কর্মীকে সেখানে যেতে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ভেরিটের জরিপেও উঠে এসেছে একই চিত্র। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীরা গড়ে খরচ করেছেন ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত খরচের প্রায় সাত গুণ। এই হিসাব করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার কর্মীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। কাজেই এটা কোনো একজন ভুক্তভোগীর গল্প নয়; পুরো ব্যবস্থারই একটি চিত্র।

    হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুযোগ হাতেগোনা পেয়েছিলো কয়েকটি

    ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ওই দিন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী পাঠানো নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তখন বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে ১ হাজার ৫২০টি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল, এতগুলো এজেন্সি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেলে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং নিয়োগ খরচ কমবে।

    কিন্তু ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে জানায়, তারা মাত্র ২৫টি এজেন্সি বেছে নেবে। পরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০১ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও ছিল। অর্থাৎ দেড় হাজারের বেশি বৈধ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলো হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

    এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১৩টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মতো ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল মূলত বাংলাদেশেই। অর্থাৎ সমস্যার জন্য শুধু মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তকে দায়ী করলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। বাংলাদেশের নিয়োগব্যবস্থার দুর্বলতাও এই পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

    কর্মীর কাছ থেকে এত টাকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো যেভাবে

    বিষয়টি বুঝতে বাজারের একটি সাধারণ নিয়ম মনে রাখা দরকার। কোনো পণ্য বা সেবার চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহের সুযোগ কয়েকজনের হাতে সীমাবদ্ধ থাকলে দাম নির্ধারণের ক্ষমতাও চলে যায় ওই অল্প কয়েকজনের হাতে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এখানে মূল বিষয় ছিল নিয়োগ আদেশ বা ডিমান্ড লেটার এবং ভিসা। অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠান কতজন কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে, সেটি নির্ধারণের ক্ষমতা সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় মধ্যস্থতাকারীরা বাড়তি টাকা আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নিয়োগ আদেশের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের দিতে হয়েছে প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। সিন্ডিকেটের নেতাদের কাছে গেছে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। অথচ কর্মী নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল মাত্র ১০০ রিঙ্গিত, যা তখনকার হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টাকা।

    এসব অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত ও বিচার চলছে। তাই এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কর্মীদের কাছ থেকে কেন এত বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি অর্থনৈতিক বিষয়, যাকে বলা হয় তথ্যের অসমতা। ২০০১ সালে এই তত্ত্বের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জর্জ আকারলফ, মাইকেল স্পেন্স ও জোসেফ স্টিগলিৎজ। সহজভাবে বললে, কোনো লেনদেনে এক পক্ষ অন্য পক্ষের চেয়ে বেশি তথ্য জানলে সেই পক্ষ বাড়তি সুবিধা নিতে পারে।

    মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক গ্রামের একজন তরুণ হয়তো জানেন না, কোন ধাপে কত টাকা দেওয়ার কথা, কোন খরচ সরকারি এবং কোনটির রসিদ চাওয়া উচিত। টাকা দিয়ে প্রতারিত হলে কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটিও অনেকের জানা থাকে না। ফলে মধ্যস্থতাকারী যে পরিমাণ টাকা চান, অনেক ক্ষেত্রে সেটিই দিতে বাধ্য হন কর্মী। তাঁর সামনে বিকল্প খুব কম থাকে।

    চাকরি না পেলেও ঋণের বোঝা থেকে যায়

    অতিরিক্ত নিয়োগ খরচের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে কর্মীর বিদেশে যাওয়ার পরের জীবনে। ভেরিটের জরিপ অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের ৭৩ শতাংশ তাঁদের মাসিক বেতনের অন্তত অর্ধেক ব্যয় করছেন নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে। আবার ৪৩ শতাংশ কর্মী বেতন নিয়ে প্রতারণার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ বিদেশে গিয়ে আয় শুরু করলেও সেই টাকা দিয়ে পরিবারকে সহায়তা করা বা নিজের সঞ্চয় গড়ার সুযোগ অনেকের জন্য সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

    আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন তাঁরা, যাঁরা বিপুল টাকা খরচ করেও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র, ভিসা ও বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে পারেননি। কিশোরগঞ্জের শামীম মিয়ার ঘটনা এর একটি উদাহরণ। দালালদের হাতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েও তিনি যেতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত পেয়েছেন মাত্র ২ লাখ।

    এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতি শুধু একজন কর্মীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেক পরিবার জমি বিক্রি করে, সঞ্চয় ভাঙে কিংবা ঋণ নেয়। কর্মী বিদেশে যেতে না পারলে সেই ঋণের চাপ পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঋণের দাসত্বের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্বও অনেক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও পরিবারগুলোর আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু একজন কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রথম কয়েক মাসের আয়ের বড় অংশ যদি নিয়োগের ঋণ শোধ করতেই ব্যয় করেন, তাহলে সেই অর্থ পরিবারের খাবার, পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা সঞ্চয়ে পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই শুধু কত রেমিট্যান্স আসছে, তা দেখলেই হবে না। কর্মীর হাতে শেষ পর্যন্ত কত টাকা থাকছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত খরচের বাইরে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৬০টি মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকার ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে। তবে কারা দায়ী, তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে আদালত।

    ২০২৪ এ বন্ধ হয়েছিল নিয়োগ,দালালের দোষ, নাকি সমস্যা আরও গভীরে

    ২০২৪ সালের জুনে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। অনেকেই এই ঘটনাকে কয়েকজন দালাল বা কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম হিসেবে দেখেন। কিন্তু আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সমস্যাটি আরও গভীরে।

    ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মাত্র ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়েছিল। তখন সরকারি নির্ধারিত খরচ ছিল প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ পরে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, কর্মীদের বাস্তবে গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। ২০১৮ সালে সেই নিয়োগব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়।

    এরপর আবার এজেন্সির সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১০১ করা হলো। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে নিয়োগ আবার বন্ধ হলো। অর্থাৎ কতটি এজেন্সি কাজ করছে, সেই সংখ্যা বদলেছে, কিন্তু কর্মীদের অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার সমস্যা দূর হয়নি। এখান থেকে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সমস্যাটি শুধু দালালের সংখ্যা নয়। বরং নিয়োগের সুযোগ কীভাবে বণ্টন হচ্ছে, কারা সেই সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা আছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    অথচ ২০১২ সালে সরকারি পর্যায়ে জি টু জি বা সরকার থেকে সরকার ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে নিয়োগ খরচ তুলনামূলক কম ছিল। তখন প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর জন্য ১৪ লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। লটারির মাধ্যমে কর্মী বাছাই করা হয়েছিল। তবে ওই ব্যবস্থা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। অর্থাৎ কম খরচে কর্মী পাঠানো সম্ভব হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এখানেই মূল চ্যালেঞ্জ। এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে কর্মীর খরচ কমবে, আবার নিয়োগের সুযোগও অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে আটকে থাকবে না।

    যা করলে পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে না

    আবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়েসেল, ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই ১০ হাজার কর্মীর যাত্রা পুরোপুরি বিনা খরচের হবে না। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁদেরও বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বোয়েসেলের সামান্য সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। অন্যদিকে, ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর কথা জানানো হয়েছে এবং জনপ্রতি এর ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। মাইগ্রামস স্লিপের জন্য কোনো টাকা লাগবে না।

    কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর এখনো মেলেনি। একজন কর্মীকে সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ করতে হবে? ২৮ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের বিশেষ ১০ হাজার কর্মীর বাইরে অন্যদের পাঠাতে খরচ হতে পারে ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে খরচ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হতে পারে বলেও তিনি ধারণা দিয়েছেন। তবে এই অঙ্ক বেসরকারি এজেন্সির জন্য কোনো সরকারি নির্ধারিত হার নয়। ২ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারও সামগ্রিক নিয়োগ ব্যয়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যেতে একজন কর্মীর পকেট থেকে ঠিক কত টাকা যাবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

    এখানেই পুরোনো ভুলগুলো এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আমার মতে, প্রথমত, নিয়োগ আদেশ বা চাহিদাপত্র বণ্টনের প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করতে হবে। কোন এজেন্সি কতজন কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেল, সেই তথ্য সবার জন্য প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের প্রতিটি ধাপের খরচ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করতে হবে। কোন খাতে কত টাকা লাগছে, তার রসিদসহ পুরো হিসাব যেন কর্মী নিজের মোবাইল ফোনেই দেখতে পারেন। এর আগে মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের বোয়েসেলের মাধ্যমে পুনরায় পাঠানোর সময় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকার একটি খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে মালয়েশিয়ার এজেন্ট ফি ৭৫ হাজার টাকা, বিমানভাড়া ৪৫ হাজার, প্রশিক্ষণ ২২ হাজার ৫০০, মেডিকেল পরীক্ষা ১০ হাজার এবং সাক্ষাৎকারসংক্রান্ত খরচ ১০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। এই হিসাবটি বর্তমান সবার জন্য নির্ধারিত খরচ নয়, তবে প্রতিটি খরচ আলাদা করে প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি অনুসরণযোগ্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

    তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ন্যায্য নিয়োগনীতির মূল কথা হলো, চাকরি পাওয়ার জন্য কর্মী বা চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগ ফি কিংবা সংশ্লিষ্ট খরচ নেওয়া উচিত নয়। এসব ব্যয় বহন করবে নিয়োগকর্তা। মালয়েশিয়ার ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে যে শূন্য নিয়োগব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে শুধু বিশেষ সুবিধা হিসেবে না রেখে ভবিষ্যতে সবার জন্য কার্যকর করার চেষ্টা করা উচিত। চতুর্থত, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ তদারকির ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো কর্মী প্রতারণার শিকার হলে যেন সহজে, বিনা খরচে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং তাঁর অভিযোগের দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।

    একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, শ্রমবাজার খুলে দেওয়া আর কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এক কথা নয়। এবার শুধু বেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নিলে হবে না, তাঁদের কত টাকা খরচ হচ্ছে, সেই হিসাবও প্রকাশ করতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত নভেম্বরে প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ব্যয় ও নিয়োগের নিয়মই বলে দেবে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এবার সত্যিই পরিবর্তন আসছে, নাকি পুরোনো সমস্যাগুলো নতুন করে ফিরে আসছে।

    রাকিবুল ইসলাম
    রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    মণিপুরে এত রক্তপাতের পরও শান্তি ফিরছে না কেন?

    নভেম্বর 2, 2026
    সম্পাদকীয়

    সাংবাদিকের কলমে কেন এত ভয়?

    নভেম্বর 2, 2026
    অর্থনীতি

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, এ বছরে মোট প্রাণহানি ৪৩৩

    নভেম্বর 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.