গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একসময় ঘাস আর আগাছায় ভরা পরিত্যক্ত জমি এখন সবুজ বাগানে রূপ নিয়েছে। সেখানে মাচা থেকে ঝুলছে বিদেশি ফল সাম্মাম, যা বাজারে রক মেলন নামে পরিচিত। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান খান এই ফল চাষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছেন।
সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় জমি বর্গা নিয়ে এই বাগান করেছেন। প্রচলিত পদ্ধতির বদলে তিনি মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন। লতানো গাছ মাচায় তুলে দেওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে ফলগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
কামরুজ্জামান জানান, জমি বর্গা, চারা, শ্রমিক, সার, সেচ, মালচিং ও পরিচর্যা মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম দফার ফল বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাকি ফল ঠিকমতো বিক্রি করতে পারলে মোট বিক্রি ছয় থেকে সাত লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁর আশা। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ফল ঢাকার আড়তেও পাঠানো হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাম্মাম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
কাপাসিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন কামরুজ্জামান। এই উদ্যোগের আয়ে তিনি পাঁচ সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন, পাশাপাশি এলাকার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে চাষ চালিয়ে যাওয়া এই উদ্যোক্তা আগামী জানুয়ারি থেকে আরও বড় পরিসরে সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ বলেন, রক মেলন সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সংগ্রহের উপযোগী হয়। সঠিক পরিচর্যা ও ভালো বাজারদর পেলে প্রতি বিঘা জমি থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি সম্ভব। তাঁর ভাষ্য, এই ফলে বেটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান আছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরোনো ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআঁশ মাটি এই ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে ফলটি দ্রুত পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় সংগ্রহের পর দ্রুত পরিবহন ও সঠিক বিপণনের ওপর তাঁরা জোর দিয়েছেন।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

