নভেম্বরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৫২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই তিন দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর এক দিনেই দেশে এসেছে ১৬১ মিলিয়ন ডলার। এর আগের দুই দিনে, অর্থাৎ ১ ও ২ নভেম্বর দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৬০ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই দুই দিনে এসেছিল ২১৯ মিলিয়ন ডলার। দুই দিনের হিসাবেই প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ।
শুধু নভেম্বরের শুরু নয়, চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১১ হাজার ৯৮৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১০ হাজার ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১ হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
এর আগে সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৫৬৪ মিলিয়ন ডলার। তবে টানা পাঁচ মাস ধরে মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। গত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কোনো মাসেই এই সীমা অতিক্রম করেনি প্রবাসী আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক হিসাবেও গত কয়েক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামা দেখা যায়। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২ হাজার ৮৫৯ মিলিয়ন ডলার, আগস্টে ২ হাজার ৯৬৮ মিলিয়ন এবং সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৭৬৬ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরেও প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এর প্রবাহ বাড়লে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে সহায়তা মেলে। তবে মাসের প্রথম কয়েক দিনের উচ্চ প্রবৃদ্ধি দিয়ে পুরো মাসের চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। নভেম্বরজুড়ে এই গতি বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

