Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, মে 1, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ঋণে চলা অর্থনীতি কতটা টেকসই?
    অর্থনীতি

    ঋণে চলা অর্থনীতি কতটা টেকসই?

    কাজি হেলালমে 12, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ঋণে চলা অর্থনীতি কতটা টেকসই?
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে তার সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয়ের ভারসাম্যের ওপর। কিন্তু যখন ব্যয় বাড়ে অথচ আয়ের গতি কমে, তখন সেই ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্র নির্ভর করে ঋণের ওপর। আজকের বিশ্বে ঋণ যেন রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন প্রকল্প, বাজেট ঘাটতি কিংবা বৈদেশিক বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ঋণের ভূমিকা স্পষ্ট। বাংলাদেশও এই ধারার বাইরে নয়।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ঋণনির্ভরতার গন্তব্য ঠিক কোথায়? আমরা কি এগোচ্ছি টেকসই উন্নয়নের পথে, নাকি ধীরে ধীরে আটকে যাচ্ছি এক অদৃশ্য ঋণচক্রে? বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কারণ উন্নয়ন আর ঋণের পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম—যেখানে সামান্য ভারসাম্যহীনতাই অর্থনীতিকে ফেলে দিতে পারে গভীর সংকটে।

    ঋণ নির্ভর অর্থনীতিতে টেকসই না হওয়ার কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো: ঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলে একটি দেশের অর্থনীতি টেকসইভাবে এগোতে পারে না। কারণ বেশি ঋণ নেওয়া মানে ভবিষ্যতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়া। এই চাপ একদিকে যেমন বাজেটের ওপর বোঝা ফেলে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্যও নষ্ট করে দেয়। সময়ের সঙ্গে ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে দেশের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে, উন্নয়নও থমকে যেতে পারে।

    ঋণনির্ভর অর্থনীতি কখনোই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে ক্রমাগত ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কিন্তু এই নির্ভরতা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    যখন একটি দেশ অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করে, তখন সেই ঋণের সুদ এবং মূলধন পরিশোধে একটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে সরকারকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন: স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে সমস্যা হয়। ফলে জনসাধারণের মৌলিক সেবা প্রাপ্তি বাঁধাগ্রস্ত হয় এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে স্থবিরতা তৈরি হয়।

    বৈদেশিক ঋণের বিষয়টি আরও জটিল। কারণ এই ঋণ পরিশোধে প্রয়োজন হয় বৈদেশিক মুদ্রা, যা সরবরাহ সীমিত থাকায় রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করে। রিজার্ভ হ্রাস পেলে আমদানি খাতে জটিলতা দেখা দেয় এবং দেশের মুদ্রার মানও অবমূল্যায়িত হতে শুরু করে। এতে পণ্যের দাম বাড়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

    ঋণের এই চাপ কেবল সরকারের উপরই নয় জনগণের উপরও বর্তায়। মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেলে সাধারণ নাগরিকদের ভবিষ্যৎও ঝুঁকিতে পড়ে। কারণ রাষ্ট্র যদি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তখন আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ কমে, কর্মসংস্থান হ্রাস পায় এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ে।

    অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে সরে আসতে হবে। তার পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং রপ্তানিমুখী খাতকে জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একটি শক্তিশালী ও গভীর আর্থিক খাত গড়ে তোলা, কর কাঠামো সংস্কার এবং উৎপাদনশীল খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিতকে মজবুত করতে পারবে।

    বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি এখন কতটা উদ্বেগজনক?
    বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রমেই ঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। দেশি ও বিদেশি—দুই ধরনের ঋণের পরিমাণই বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ। এই চাপ শুধু অর্থনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

    বিদেশি ঋণের চাপ বাড়ছে: বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ক্রমশঃ বাড়ছে। বর্তমানে এটি প্রায় ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সংখ্যাগত দিক থেকে এটি পূর্বের তুলনায় খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি, তবে এর সুদ ও পরিশোধের চাপ বেড়েছে অনেক বেশি।

    ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে: আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুদসহ ঋণ পরিশোধে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এর অর্থ হলো—আগামী দিনে বাজেটের বড় একটি অংশ চলে যাবে কেবল ঋণের দায় মেটাতে।

    বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমছে: ব্যাংক ঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর পেছনে বড় কারণ হলো নতুন বিনিয়োগ না হওয়া, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকারি সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে সুদের হার বাড়ানো। যা বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক ঋণের বদলে অন্যদিকে টানছে।

    সরকারি ঋণের ভারও বাড়ছে: সরকারি ঋণের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ঋণের স্থিতি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ কোটি টাকায় এবং ২০২৬-২৭ সালে তা আরও বেড়ে ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে।

    সুদের হার বাড়ছে, ব্যয়ও বাড়ছে: বিশ্ব বাজারে সুদের হার বেড়ে যাওয়াও বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে “সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট (SOFR)” এখন ৫ শতাংশের ওপরে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নেওয়া ঋণের সুদও বেড়ে গেছে। এতে ঋণ গ্রহণের খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ সুদ হিসেবে দিতে হবে।

    আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে নেতিবাচক সিগনাল: বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘মুডিস’ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এর পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

    ঋণের পেছনের যুক্তি ও বাস্তবতা: ঋণগ্রহণ সব সময় নেতিবাচক কিছু নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি স্বাভাবিক অংশ। ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকার—সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের মুহূর্তে ঋণ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে এর পেছনের যুক্তি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু কঠিন বাস্তবতাও যা বিবেচনায় না নিলে পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।

    প্রথমতঃ ঋণ নেওয়ার মূল যুক্তি সাধারণত প্রয়োজন মেটানো। কেউ ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগের জন্য ঋণ নিতে পারে, কেউ শিক্ষা বা চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে পারে, আবার কেউ হঠাৎ করে জরুরি কোনো খরচের মুখে পড়লে বাধ্য হয়ে ঋণ গ্রহণ করে। সরকারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য—বড় কোনো অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প, বা অর্থনৈতিক চক্র সচল রাখার জন্য সরকার অনেক সময় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের দিকে ঝুঁকে।

    তবে বাস্তবতা অনেক সময় কঠিন হয়। ঋণ শুধু একটি নির্দিষ্ট অর্থের যোগানই দেয় না, বরং তার সঙ্গে যুক্ত হয় সুদ পরিশোধের দায়। সুদের হার বেশি হলে সেই দায় ক্রমে ভারী হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় মূল ঋণের চেয়েও বেশি অর্থ ফেরত দিতে হয়। যদি সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করা যায় তাহলে তৈরি হয় খেলাপির আশঙ্কা, যা ব্যক্তিগতভাবে কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভবিষ্যতে ঋণ গ্রহণে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এছাড়া অনেক সময় ঋণ নেওয়ার সময় মানুষের বা সরকারের কাছে যথেষ্ট রিসোর্স না থাকলেও ভবিষ্যতের ওপর ভরসা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতার চাপে যদি সেই প্রত্যাশিত আয় না আসে, তাহলে ঋণ পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ব্যক্তি পর্যায়ে পরিবারে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি সরকারের বাজেটেও বড় ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

    ঋণের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় ঝুঁকি হলো সুদের হার ও মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা। আন্তর্জাতিক ঋণের ক্ষেত্রে যদি বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার বেড়ে যায় কিংবা দেশের মুদ্রার মান কমে যায়, তাহলে ঋণ পরিশোধে প্রয়োজন হয় আরও বেশি অর্থ, যা দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করে।

    সবশেষে বলা যায় ঋণ নেওয়া একেবারে এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত। কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়, বরং ভবিষ্যতের সামর্থ্য, ঝুঁকি এবং দায় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ঋণ নেওয়ার আগে ঋণদাতার শর্তাবলী ভালোভাবে বুঝে নেওয়া এবং ঋণের সুদ ও পরিশোধের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সচেতনতা ও দূরদর্শিতাই পারে ঋণকে ভার না করে বরং একটি উপকারে পরিণত করতে।

    টেকসই অর্থনীতির জন্য করণীয়: টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। শুধু স্বল্পমেয়াদি লাভ নয় দীর্ঘমেয়াদে মানবিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হয়। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং অতিরিক্ত ভোগবিলাসের প্রবণতা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—কীভাবে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ।

    টেকসই অর্থনীতির জন্য প্রথম প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নীতি কাঠামো, যেখানে অর্থায়ন হবে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক দিক বিবেচনায় রেখে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আমাদের দেশের ব্যাংক ও বিনিয়োগ খাতকে টেকসই প্রকল্পে উৎসাহিত করতে হবে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতি হবে সবুজ ও দূষণহীন।

    একইসঙ্গে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকেও নজর দিতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

    প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারও এই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং পরিবেশবান্ধব করতে হবে।

    তবে এই সব কিছু তখনই সম্ভব, যখন জনসচেতনতা বাড়বে। মানুষ যদি বুঝতে পারে টেকসই উন্নয়ন কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি—তবেই গড়ে উঠবে একটি স্থিতিশীল এবং দায়িত্বশীল অর্থনীতি। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করা জরুরি।

    পরিশেষে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা স্থাপন করা প্রয়োজন। তৃণমূল পর্যায় থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই উন্নয়নযাত্রা আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে। বর্তমান বিশ্বে যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা প্রতিনিয়ত আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে, সেখানে টেকসই অর্থনীতির পথই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

    ঋণ একদিকে যেমন অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সাহায্য করে, তেমনি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা একে করে তোলে ঝুঁকিপূর্ণ। যদি ঋণ গ্রহণ সুপরিকল্পিত হয় এবং উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা অর্থনীতিকে চাঙা করতে পারে। কিন্তু বারবার পুনঃঋণ নেওয়া, ঋণের টাকা অপচয় বা ভুল ব্যবহারের মাধ্যমে একটি অর্থনীতি ধীরে ধীরে ভারসাম্য হারায় এবং টেকসইতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই ঋণের ওপর নির্ভর না করে রাজস্ব বৃদ্ধির পথ তৈরি, দুর্নীতি রোধ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনভিত্তিক ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটতে হলে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    মিশ্র সংকেতে অর্থনীতি—মূল্যস্ফীতি কমলেও রপ্তানি-রাজস্বে চাপ

    মে 1, 2026
    অর্থনীতি

    কেন হঠাৎ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব?

    মে 1, 2026
    অর্থনীতি

    দেশে তেল-গ্যাসের তিন কূপ খনন করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

    মে 1, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.