দেশে গ্যাস ও তেলের উৎপাদন বাড়াতে গভীর স্তরের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুটি গ্যাস কূপ এবং একটি তেল কূপ রয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৫ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুটি প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ:
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী দুটি পৃথক কূপ খনন প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১।
এই দুটি কূপ খননের কাজ টার্ন-কি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি দরপত্র কারিগরি ও আর্থিকভাবে উপযুক্ত বিবেচিত হয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে পিইসি’র সুপারিশ অনুযায়ী চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুংকুইং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।
এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
একই বৈঠকে আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে সিলেট-১২ নম্বর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এ কাজও টার্ন-কি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।
এই প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি প্রস্তাব জমা পড়ে এবং উভয়ই কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। পরে টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চীনের সাইনোপ্যাক ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সার্ভিস করপোরেশনকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩২ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৫ টাকা।
তিন কূপ মিলিয়ে বড় বিনিয়োগ:
সব মিলিয়ে তিনটি অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

