মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর জোটের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। রোববার ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ১ আগস্ট পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এবং বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট উরসুলা বলেছেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আমরা ১ আগস্ট পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।’ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই শুল্ক আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প শুল্ক নীতির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। গত এপ্রিলে বিশ্বের কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেও তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। এবার ইইউর ওপর সরাসরি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তিনি আবারও আগের অবস্থানে ফিরলেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষায় এ পদক্ষেপ জরুরি।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই শুল্ক বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির প্রধান বেয়ার্ন লাংগে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘মুখের ওপর চড় দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ইইউকে অবিলম্বে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে।

