যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযানে পরিণত হয়। ম্যানহাটনের রাস্তায় হওয়া এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অন্তত শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ম্যানহাটনে যান চলাচল বন্ধ করে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।
এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় “জিউইশ ভয়েস ফর পিস” নামের একটি সংগঠন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, অভিনেত্রী হারি নেফ এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য আলেকসা অ্যাভিলেসসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।
বিক্ষোভকারীরা সিনেটর চাক শুমার এবং কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের দাবি ছিল, সামরিক খাতে অর্থ ব্যয় কমিয়ে তা মানবকল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন একদল বিক্ষোভকারী চাক শুমারের অফিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এরপর শত শত মানুষ রাস্তায় বসে পড়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে এবং “বোমায় নয়, মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করো”—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
পুলিশ পরে ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং তিন শতাধিক অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রায় ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করে বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বড় ধরনের জনসমাগম ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই বিক্ষোভ শুধু একটি স্থানীয় প্রতিবাদ নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন। পরিস্থিতি যতই জটিল হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর ঢেউ এখন পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথেও।

