ভারতে গত জুন মাসে পাম অয়েল আমদানি ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল (১৪ জুলাই) দেশটির ভোজ্যতেল শিল্পসংস্থা সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে—খবর বিজনেস রেকর্ডারের।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুনে ভারতের মোট পাম অয়েল আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৩ টন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে এটি একক মাসে সর্বোচ্চ আমদানি। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে পাম অয়েল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা পাম অয়েলের দিকেই ঝুঁকেছেন। এছাড়া দেশের মজুদ কমে যাওয়ায় পরিশোধন কোম্পানিগুলো আমদানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশটির আমদানি বাড়ায় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোর মজুদে প্রভাব পড়তে পারে। এতে আগামী দিনে বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে গত মাসে ভারতের সয়াবিন তেল আমদানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। মে মাসের তুলনায় এটি ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৪ টনে। অন্যদিকে সূর্যমুখী তেল আমদানি বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪১ টন, যা ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ১ জুলাই পর্যন্ত ভারতে পাম অয়েলের মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৬৮ হাজার টন। এক মাস আগে, জুনের শুরুতে এই পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার টন।
ভোজ্যতেল গবেষণা সংস্থা জিজিএন রিসার্চের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ পটেল জানিয়েছেন, জুলাইয়েও ভারতের পাম অয়েল আমদানি ৯ লাখ টনের বেশি থাকতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো পাম অয়েলের দাম অন্য ভোজ্যতেলের তুলনায় কম। এ কারণে আমদানি প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

