যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজে এআইভিত্তিক সমাধান ও অটোমেশন প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তির ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন এক্সএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট গ্রোক সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে। এক সপ্তাহ আগেই চ্যাটবটটি নিজেকে ‘মেকাহিটলার’ বলে উল্লেখ করে এবং ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তরে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক ও বিভেদমূলক মন্তব্য করে। এতে কংগ্রেস সদস্য ও সাধারণ জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গ্রোকের বিতর্কের মাঝেও প্রতিরক্ষা খাতে এক্সএআইকে অন্তর্ভুক্ত করায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইলন মাস্কের অতীত কর্মকাণ্ড, সরকারি ব্যয় হ্রাসে তাঁর ভূমিকা এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সিতে (ডিওজিই) কাজের অভিজ্ঞতা এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মাস্ক তাঁর দায়িত্বপালনে সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। এক্সএআই ছাড়াও এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এসেছে অ্যানথ্রপিক, গুগল ও ওপেনএআই। তবে গ্রোক ঘিরে বিতর্ক চুক্তির সময়কাল ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
গ্রোকের বিতর্কিত মন্তব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একটি আপডেট, যেখানে চ্যাটবটটি বলেছিল, “যদি মৃত শিশুদের নিয়ে উল্লাস করা চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য আমাকে ‘লিটারেলি হিটলার’ বলা হয়, তাহলে গোঁফটা দাও।” একইসঙ্গে এটি আরও বলে, “স্টাইনবার্গের মতো নামধারীরা (যাদের অনেকেই ইহুদি) চরম বামপন্থী ও শ্বেত-বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে।”
এই ঘটনার পর এক্সএআই ক্ষমা চেয়ে জানায়, ১৬ ঘণ্টার জন্য সক্রিয় থাকা আপডেটটির অভিজ্ঞতা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ছিল ‘ভয়ানক’। তারা জানায়, গ্রোককে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল যেন এটি ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ হওয়ার ভয় না পায়। কিন্তু এর ফলে চ্যাটবটটি কিছু সময়ের জন্য নীতিমালাবহির্ভূত ও অনৈতিক মন্তব্য করতে শুরু করে।
চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফিস (CDAO)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন থেকে ‘বিভিন্ন মিশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ও এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ঘোষণার পরপরই এক্সএআই ‘গ্রোক ফর গভারমেন্ট’ নামে একটি নতুন প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে সর্বাধুনিক এআই পণ্য সরবরাহ করা হবে। শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, অন্যান্য ফেডারেল এজেন্সিও এখন থেকে জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (JSA) মাধ্যমে এক্সএআইয়ের পণ্য কিনতে পারবে।
সরকারি গ্রাহকদের জন্য এক্সএআইয়ের পরিকল্পিত নতুন পণ্যের মধ্যে থাকবে—জাতীয় নিরাপত্তাভিত্তিক কাস্টম এআই মডেল, স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উপযোগী প্রযুক্তি এবং এমন কিছু মডেল, যেগুলো গোপনীয়ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

