জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ—‘রাজস্বনীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’—গঠনের জন্য যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, সেটিতে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধন হচ্ছে না।
আন্দোলনের মুখে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই সময়সীমা শেষ হলেও এখনো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কাজ শেষ হয়নি। ফলে সংশোধনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
গত ১২ মে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হঠাৎ করেই এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের ঘোষণা দেয়। এই অধ্যাদেশ জারির পর থেকেই রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
তারা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁদের ক্যারিয়ার, ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানগত অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরপর শুরু হয় টানা কলম বিরতি, শাটডাউন, পদযাত্রা—আন্দোলনের নানা কর্মসূচি।
চাপে পড়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ২৫ মে ঘোষণা দেয়, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। সেই লক্ষ্যে ২৯ জুন পাঁচ উপদেষ্টার সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
সূত্র বলছে, সংশোধনের আগে সরকার চাইছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় নিতে। এরইমধ্যে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ক্যাডারের সংগঠনগুলো পৃথকভাবে তাঁদের নিজ নিজ দাবিনির্ভর প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা চাচ্ছেন যেন দুই নতুন বিভাগের নেতৃত্ব এনবিআরের বর্তমান সদস্যদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হয়। এ ছাড়া তাঁদের ক্যারিয়ারে যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে, সেসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে প্রস্তাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, “অধ্যাদেশে সংশোধন হবেই—এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্ভব হচ্ছে না। উপদেষ্টা কমিটি এখনও মতামত নিচ্ছে, তাই কিছুটা সময় লাগবে।”
কমিটির উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি পরিদর্শন করেছেন এবং পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যান এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে তারা “কমপ্লিট শাটডাউন” ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচিও পালন করেন।
তবে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর, ২৯ জুন আন্দোলন থেকে ফিরে আসেন তাঁরা। এরপর শুরু হয় আলোচনার পথ।
যদিও ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধন হচ্ছে না, তবু সংশ্লিষ্ট মহলের আশাবাদ—সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, ধৈর্য নিয়ে এক সমঝোতার পথ খুঁজে পাবে সরকার। কারণ, রাজস্ব প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নিলে তার ফল পুরো অর্থনীতি ও প্রশাসনে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

