গ্রামের ঘরে তৈরি শীতলপাটি, শতরঞ্জি, তাঁত, মৃৎশিল্প কিংবা বুননশিল্পের পণ্য এতদিন মূলত স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারিগরের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা থাকলেও আধুনিক নকশা, মানসম্মত কাঁচামাল, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগের অভাবে এসব পণ্য বড় পরিসরে বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। এবার সেই চিত্র বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রামভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক নকশায় সাজিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুরু হচ্ছে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক প্রকল্প।
প্রাথমিক পর্যায়ে শীতলপাটি, শতরঞ্জি, তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প ও বুননশিল্প—এই পাঁচ ধরনের পণ্যকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন গ্রামের সম্ভাবনাময় একটি পণ্যকে আলাদা পরিচয় ও ব্র্যান্ডে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রামেই প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনাটি শুধু কয়েকটি পণ্য বিদেশে বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি গ্রামের নির্দিষ্ট পণ্যকে ঘিরে উৎপাদন, নকশা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহণ, বিপণন ও রপ্তানির একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে। অর্থাৎ গ্রামের কারিগর যে পণ্য তৈরি করেন, সেটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির উপযোগী করে তোলার পুরো প্রক্রিয়াটিই এই উদ্যোগের আওতায় আনার চেষ্টা থাকবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য সরাসরি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি কয়েকটি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল শিল্পের অবদান বাড়ানো। অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সৃজনশীল শিল্পের অবদান বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র স্টুডিও, অনলাইনভিত্তিক বিনোদন খাতের উন্নয়ন এবং দেশের সৃজনশীল পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অন্যতম বড় অবকাঠামোগত উদ্যোগ হলো পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে কেন্দ্রীয় সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক জেলা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে সৃজনশীল অর্থনীতির কার্যক্রমকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
গ্রামীণ পণ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু উৎপাদন নয়, বাজারে পৌঁছানো। একজন কারিগর হয়তো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে একটি পণ্য তৈরি করতে পারেন, কিন্তু সেই পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে কীভাবে পৌঁছাবে, তার প্যাকেজিং কেমন হবে, কোন নকশা বিদেশি বাজারে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং কীভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা থাকে না।
এ কারণেই দেশীয় ডিজাইনারদের নিয়ে ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্রামীণ কারুশিল্পীদের সঙ্গে পেশাদার ডিজাইনারদের যোগাযোগ তৈরি হলে ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেই সেগুলোকে আধুনিক বাজারের উপযোগী করা সম্ভব হতে পারে। সভায় ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলকে যুক্ত করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এই ডিজাইনার পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করছে গত এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাবনাময় পণ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা। কোন এলাকায় কোন পণ্য তৈরি হয়, সেই পণ্যের স্থানীয় ঐতিহ্য কী এবং সেটিকে কীভাবে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা যায়—এসব বিষয় যাচাই করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একটি এলাকার নিজস্ব পরিচয় ও ঐতিহ্যকে পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার আলাদা আবেদন তৈরি করা সম্ভব।
তবে শুধু পণ্য তৈরি করলেই এই পরিকল্পনা সফল হবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন গ্রামের কারিগরকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরও অনেক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মানসম্মত কাঁচামালের সরবরাহ, আধুনিক নকশা, উন্নত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ড পরিচিতি, অনলাইনভিত্তিক বিক্রির ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, মেধাস্বত্ব ও ভৌগোলিক নির্দেশক সুরক্ষা, মান সনদ এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সবকিছু একসঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এসব ব্যবস্থা না থাকলে বড় অবকাঠামো তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। শুধু একটি কেন্দ্র নির্মাণ করে সেখানে কারিগরদের নিয়ে এলেই সৃজনশীল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের এক বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে আলোচকরা নীতিগত সংস্কার, কর-সহায়তা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, শুধু অবকাঠামো তৈরি করে সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; এর জন্য কার্যকর নীতি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ প্রয়োজন।
‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবও বেশ বড়। এই কর্মসূচির আওতায় কর্মসংস্থান শুধু কারুশিল্পী বা পণ্য প্রস্তুতকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি পণ্যকে বাজারজাত করার জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁচামাল সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মান নিয়ন্ত্রণ, নকশা, পরিবহণ, সংরক্ষণ, বিপণন এবং রপ্তানি—প্রতিটি পর্যায়েই নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যেমন একটি গ্রামের তাঁতপণ্য যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়, তাহলে শুধু তাঁতির কাজ বাড়বে না। সুতা ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহকারী, নকশাবিদ, মান যাচাইকারী, প্যাকেজিং কর্মী, পরিবহণকর্মী, বিপণনকর্মী এবং অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে মৃৎশিল্প বা বুননশিল্পের একটি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় হলে তার সঙ্গে যুক্ত পুরো স্থানীয় অর্থনীতিই সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ জানিয়েছেন, বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে দেশের কোন এলাকায় কী ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে কাজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটি ৩৩-৩৪টি কর্মশালা করেছে। তার মতে, ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৭৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ৭৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে কাজের সন্ধানে গ্রামের অনেক মানুষ শহরমুখী হন। স্থানীয় পণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে গ্রামের ভেতরেই আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে। এতে একদিকে শহরমুখী চাপ কিছুটা কমতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় সম্পদ ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বাজারের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সাধারণত পণ্যের নকশা ও সৌন্দর্যের পাশাপাশি মান, সরবরাহের ধারাবাহিকতা, সময়মতো পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ও বিবেচনা করেন। গ্রামের ছোট ছোট উৎপাদকদের পক্ষে একা এসব শর্ত পূরণ করা কঠিন। তাই সমবায়ী বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বহু ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও সংস্কৃতির পরিচয় জড়িয়ে আছে। এসব পণ্যের নকশা বা বৈশিষ্ট্য বিদেশি বাজারে অন্য কেউ ব্যবহার করলে স্থানীয় কারিগররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই মেধাস্বত্ব ও ভৌগোলিক নির্দেশক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি কারিগরদের স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
গ্রামীণ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতে অনলাইনভিত্তিক বিক্রির ব্যবস্থাও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি ছোট গ্রামের কারিগরকে সরাসরি বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে প্রচলিত মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। তবে এর জন্য ডিজিটাল বিপণন, আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন, পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা এবং ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দরকার হবে।
এদিকে সৃজনশীল অর্থনীতির বিস্তৃত পরিসরেও সরকার নতুন সম্ভাবনা দেখছে। কনটেন্ট নির্মাতা, স্বাধীন পেশাজীবী ও নতুন উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বড় সম্ভাবনা রয়েছে আত্মকর্মসংস্থানে। এসব নতুন উদ্যোগকে উৎসাহিত করা গেলে এই খাত ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসংস্থানের উৎস হতে পারে।
তবে বরাদ্দের পরিমাণের চেয়ে সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ। তার মতে, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে কতটা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বাজার তৈরি হচ্ছে, সেটিই সাফল্য পরিমাপের মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত।
সরকারের পরিকল্পনা তাই একদিকে যেমন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও সামনে আনছে। ৭৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু পণ্য নির্বাচন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট হবে না। কারিগর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর বাণিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে এমন অসংখ্য পণ্য রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে শত বছরের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের দক্ষতা জড়িয়ে আছে। এতদিন এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল বাজারের পরিধি। এখন যদি আধুনিক নকশা, মান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে গ্রামের একটি ছোট কারুশিল্পও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচির আসল সাফল্য তখনই হবে, যখন কোনো একটি গ্রামের কারিগর শুধু স্থানীয় হাটে নয়, বিশ্বের অন্য প্রান্তের ক্রেতার কাছেও নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। আর সেই সঙ্গে যদি গ্রামেই স্থায়ী আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে উদ্যোগটি শুধু সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ নয়, বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

