যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। টার্গেট ইরানের জাহাজ পরিবহন খাত—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ১০০’র বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
এই পদক্ষেপটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সর্বশেষ চাপ সৃষ্টির কৌশল। বিশেষ করে গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও তীব্র করা হচ্ছে।মূল নজরে রয়েছে মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি নামে এক ব্যবসায়ী, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানির ছেলে। তার মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান এবং রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
ট্রেজারির ভাষ্য অনুযায়ী, শামখানির নেটওয়ার্কটি একটি জটিল ‘মধ্যস্থতাকারী চক্র’, যারা কন্টেইনার ও ট্যাংকার জাহাজ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে বিপুল অঙ্কের মুনাফা করছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যাঁরা পড়েছেন:
-
১৫টি শিপিং কোম্পানি
-
৫২টি জাহাজ
-
১২ জন ব্যক্তি
-
৫৩টি প্রতিষ্ঠান
যারা একসঙ্গে ১৭টি দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে পানামা, ইতালি ও হংকংও।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের তেল বিক্রিকে আরও কঠিন করে তুলবে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা হবে না বলেই মনে করছে হোয়াইট হাউস।
তিনি আরও জানান, এ বছরের শুরুতে যেখানে ইরান দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছিল, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ লাখে। এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনাই এখন লক্ষ্য।
ট্রাম্প প্রশাসনের আগের মেয়াদেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক কয়েক লক্ষ ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছিল।তেহরান এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘ইরানি জনগণের ওপর বৈরিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের অর্থনীতির অগ্রগতি ও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।যদিও বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞা চলছে, চীন এখনো ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন এক সময় এই নিষেধাজ্ঞা এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এখনো তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু ইউরোপীয় এবং ইরানি কূটনীতিকদের মতে, ইরান আপাতত আলোচনার টেবিলে ফিরছে না।
এর মাঝে ট্রাম্প আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি আবার শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে আরও হামলার মুখে পড়বে। তিনি বলেন, “ইরান থেকে এখনো বিপজ্জনক বার্তা আসছে, আর সেই ঝুঁকি আমরা মেনে নেব না।”এই নিষেধাজ্ঞা কেবল তেল বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং ইরান সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। তবে কতটা প্রভাব ফেলবে বা ইরান কতটা তা মোকাবিলা করতে পারবে, সেটা এখন সময়ই বলে দেবে।

