পূবালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মিশ্র আর্থিক ফলাফল উপস্থাপন করেছে। একদিকে কমেছে নিট সুদ আয়, অন্যদিকে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ থেকে আয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। ফলে শেষ পর্যন্ত কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি।
ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নিট সুদ আয় হয়েছে ৬৫২ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এটি ছিল ৭৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতে আয় কমেছে ১৭.৬৬ শতাংশ।
এই আয় হ্রাসের পেছনে মূল কারণ, সুদ বাবদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। যদিও সুদ আয় ২২.৪৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা কিন্তু ব্যয়ের তুলনায় এই আয় যথেষ্ট ছিল না।
তবে এ ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে ব্যাংকের বিনিয়োগ খাত। প্রথমার্ধে বিনিয়োগ আয় ৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকায়। এর মধ্যে কেবল ট্রেজারি বন্ড থেকে সুদ আয় হয়েছে ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
ট্রেজারি বিল ও অন্যান্য বন্ড থেকেও আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি টাকায়, আগের বছর যা ছিল মাত্র ১৩০ কোটি। এসব আয়ের ফলে পূবালী ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা এক বছরে বেড়ে হয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকা। আগের বছর এ মুনাফা ছিল ৪৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৩.৯ শতাংশ।
এই ছয় মাসে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৩২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৪৪ টাকা ১৭ পয়সা।
ধারাবাহিক লভ্যাংশ ও আর্থিক ভিত্তি
গত ৩ বছর ধরেই পূবালী ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ দিয়ে আসছে ধারাবাহিকভাবে।
- ২০২৪ হিসাব বছর: ২৫% (১২.৫% নগদ + ১২.৫% স্টক), ইপিএস: ৬.৭৪ টাকা, এনএভিপিএস: ৪৬.০৮ টাকা
- ২০২৩ হিসাব বছর: ২৫% (১২.৫% নগদ + ১২.৫% স্টক), ইপিএস: ৬.৭৬ টাকা, এনএভিপিএস: ৪৬.৩৩ টাকা
- ২০২২ হিসাব বছর: ১২.৫% নগদ লভ্যাংশ, ইপিএস: ৫.৪৯ টাকা, এনএভিপিএস: ৪১.৯৬ টাকা
ঋণমান রেটিং ‘ট্রিপল এ’
ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল) ব্যাংকটির ঋণমান মূল্যায়নে জানিয়েছে, পূবালী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘ট্রিপল এ (AAA)’ এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং ‘এসটি-১ (ST-1)’। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত ও চলতি বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩০১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩০ কোটি ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬৯টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৮.২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২৮.৪২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী মাত্র ০.১২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৩.২৬ শতাংশ শেয়ার।

