ব্যাংক কিংবা সঞ্চয়পত্রে ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে চাইলে এখন থেকে শুধু টিআইএন (TIN) থাকলেই চলবে না—আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণও জমা দিতে হবে। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মেয়াদি আমানতের হিসাব খুলতে বা সচল রাখতে এবং সরকারি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নিয়ম কার্যকর করেছে, যা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার দিয়ে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
নতুন নিয়মে যেসব পরিবর্তন এসেছে তা হলো:
১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানতের জন্য রিটার্ন বাধ্যতামূলক
কোনো ব্যক্তি যদি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত রাখতে চান, তাকে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
আগের হিসাব চালু রাখতেও লাগবে রিটার্ন
যেসব মেয়াদি আমানতের হিসাব আগে থেকেই খোলা রয়েছে এবং যার পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি, সেগুলো সচল রাখতে হলেও এখন রিটার্নের প্রমাণ দেখাতে হবে।
সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম
সরকারি সঞ্চয়পত্র, যেমন- ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে গেলেও করদাতার রিটার্ন জমার প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ নিয়ম চালুর পেছনে সরকার বলছে, ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণ এবং অপ্রদর্শিত আয়কে কর আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে যেসব ব্যক্তি ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রে বড় অংকের অর্থ রাখবেন, তাদের শুধু কর শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) থাকলেই হবে না—সেই নম্বরের বিপরীতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে থাকতে হবে এবং তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

