বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্ক বিভ্রান্তি আর ব্রেক্সিট-পরবর্তী জটিলতা—এই তিনে মিলে হোঁচট খাচ্ছে ব্রিটেনের শিল্প খাত। জুলাই মাসে দেশটির কারখানাগুলোর নতুন অর্ডারের পরিমাণ চোখে পড়ার মতোভাবে কমে গেছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রিটেনের রপ্তানিমুখী শিল্প খাত টানা চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়া এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী আমলাতান্ত্রিক বাধাগুলোর কারণে কারখানাগুলোর জন্য নতুন অর্ডার আসা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এসপি অ্যান্ড গ্লোবাল জানিয়েছে, গত সাড়ে তিন বছর ধরে ব্রিটেনের রপ্তানি অর্ডার ধারাবাহিকভাবে কমছে। আর চলতি জুলাই মাসে সেই পতনের গতি যেন আরও তীব্র হয়েছে। তাদের সর্বশেষ জরিপ বলছে, যুক্তরাজ্যের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ভারত, চীন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকেও আগের তুলনায় অনেক কম অর্ডার পাচ্ছে।
এই সংকট শুধু ব্রিটেনেই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউরোজোনভুক্ত দেশগুলোর একটি পৃথক জরিপে দেখা গেছে, জুলাই মাসেও অঞ্চলটির ফ্যাক্টরিগুলো তাদের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ অনুভব করেছে এবং পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।
জার্মানির হ্যামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. সাইরাস ডে লা রুবিয়া বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এখানে মূল সমস্যা চাহিদার ঘাটতি নয়, বরং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও কোম্পানিগুলোকে এই সরবরাহ সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে কৌশল সাজানোর সময় এসেছে।
সংক্ষেপে বললে, বাণিজ্যনীতিতে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়েই ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় শিল্প খাত এখন অর্ডারের খরায় ভুগছে।

