সরকারি ব্যাংকের বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিতে ১ হাজার ২৫৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০টি আবেদন প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। চলতি মাসে এসব আবেদন চূড়ান্তভাবে যাচাই করে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে সুদ মওকুফের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আড়াই হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতি অনুযায়ী এসব আবেদন নিষ্পত্তি করবে। এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে করোনা মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য। এতে তৈরি পোশাক, ভোগ্যপণ্য আমদানি, চামড়া ও বৃহৎ শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।
দেশের বৃহত্তম করপোরেট ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১ শতাংশ এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ৩০০ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, যেখানে তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। তবে শুধুমাত্র ৫০ কোটি টাকার ঋণের বেশি প্রতিষ্ঠানই আবেদন করতে পারবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ পাবে না।
ব্যাংকাররা মনে করছেন, ঋণ পুনঃতফসিল ব্যাংক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খেলাপি ঋণ কমার বদলে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ক্যাশ-ম্যানেজমেন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, চড়া সুদহার, করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়েছে। এই সুবিধা পেলে তারা পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
১ হাজার ২৫০টি আবেদন পর্যালোচনা করছেন বাছাই কমিটি। কমিটির একজন সদস্য বলেন, “প্রতিটি আবেদনের বিষয় ও প্রেক্ষাপট আলাদা। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বাছাই চ্যালেঞ্জিং। কিছু আবেদন ব্যাংক নিজেই পুনঃতফসিল করতে পারে। সুদ মওকুফের আবেদন কমিটির এখতিয়ারের বাইরে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, “বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমতি দিয়েছে। ব্যাংকগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে ঋণ পুনঃতফসিল হবে কি না। তবে এতে ব্যাংকের নগদ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, শত শত ব্যবসায়ী নিজের আবেদন বাছাই করাতে তৎপর। কমিটির সভায় তাঁর আবেদন বাছাই হয়েছে। তবে সব ঋণদাতা ব্যাংক এখনো সাড়া দেয়নি। তাই বাছাইয়ের পরও তিনি সম্পূর্ণ খেলাপিমুক্ত নন। দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে, পুনঃতফসিলের সুবিধা কার্যকর হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “১ হাজার ২৫০টি আবেদন এসেছে, এর মধ্যে ২৫০টি বাছাই করা হয়েছে।” ব্যাংকিং কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা-৪৯(চ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণিকরণ, মওকুফ বা পুনঃতফসিল সংক্রান্ত নির্দেশ দিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “দেশের স্বার্থে ঋণ পুনঃতফসিলের কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ব্যাংকগুলোই নেবে। সুদ মওকুফ সম্পূর্ণ ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়।”

