বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাপ ও মূল্য মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেল লিটারে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে পাম অয়েল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) স্থানীয় বাজারদর বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্যনীতি বিভাগের উপপ্রধান মো. মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি গতকাল বাণিজ্য সচিবের কাছে পাঠানো হয়। এতে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনটি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন নতুন দাম নির্ধারণ করে। তাতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকা, পাঁচ লিটার ৯২২ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৬৯ টাকা এবং পাম অয়েল লিটারপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রির কথা।
সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে বিটিটিসি সম্প্রতি বাজার মনিটর করে। সেখানে দেখা যায়, তেল কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে এবং পাম অয়েল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেদনে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে।
১. খোলা ভোজ্যতেল লিটার হিসেবে বিক্রি নিশ্চিত করা।
২. পাম অয়েল নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠে সক্রিয় রাখা।
৩. মিলগেট থেকে খুচরা পর্যন্ত ভোজ্যতেলের নির্ধারিত মূল্য মনিটরিং জোরদার করা।
ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, সরকার দাম বেঁধে দেয়ার পরও যদি বাজারে কার্যকর না হয় তবে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ সামান্য দাম বাড়লেই ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে সব সময় সরকারের নির্ধারিত দাম মানা সম্ভব হয় না। তবে ভোক্তা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা করছেন।

