বিশেষ সুবিধায় নবায়ন করা ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে উঠছে। ফলে নবায়ন করেও খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি কমানো যাচ্ছে না। গত বছর ব্যাংক খাতে ৮৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপিরা বিশেষ সুবিধা নিয়ে নবায়ন করেছেন। ওই বছরের শেষ পর্যন্ত নবায়ন করা ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পুনরায় খেলাপি হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ। এটি নবায়ন করা ঋণের মধ্যে সর্বোচ্চ পুনঃখেলাপির ঘটনা।
গত সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর মোট ৮৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। নবায়ন করা ঋণের স্থিতি ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা পুনরায় খেলাপি হয়েছে। বাকি ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা এখনো নিয়মিত আছে। অর্থাৎ নবায়ন করা ঋণের ৩৮.৪২ শতাংশ পুনরায় খেলাপি, আর ৬১.৫৮ শতাংশ নিয়মিত।
গত বছরের মধ্যে নবায়ন করা ঋণের পুনরায় খেলাপি সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালে এই ঋণের স্থিতি ছিল ৫৪ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী অর্ধেকের বেশি নবায়ন করা ঋণ গত বছরে খেলাপি হয়েছে। গতবছর ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাতে লুটপাটের চিত্র প্রকাশ পায়। তখন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঋণ বিশেষ ছাড়ে নবায়ন করা হয়েছিল। কিস্তি পরিশোধ না করলেও ব্যাংক তা খেলাপি হিসেবে দেখায়নি। নিয়মিত হিসাবেই রাখা হয়েছিল। সরকারের পতনের পর এই ঋণগুলো খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে নবায়ন করা ঋণের খেলাপি বৃদ্ধির প্রধান কারণ এটি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে প্রভিশন ও মূলধনের ঘাটতি বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি অংশ শীর্ষ ৫টি ব্যাংকে রয়েছে।

