দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পটি রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এই ঋণ ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের তত্ত্বাবধানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তা বর্তমানে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে উৎপাদনে যেতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, জ্বালানি লোডের পর বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হবে এবং চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। তাঁর ভাষায়, এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং একটি পর্যায়।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই কেন্দ্র থেকে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্মাণ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর প্রকল্প থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে। এরপর সেপ্টেম্বরে দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ গত বছরের মে মাসে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এদিকে রূপপুর প্রকল্পে নিয়োগ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বিচারিক পর্যায়ে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে রুল জারি করেছে বলে জানা গেছে।

