গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর প্রশাসন থেকে ৪১ অতিরিক্ত কর কমিশনারের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আদেশে সই করেছেন প্রথম সচিব (কর প্রশাসন) মো. মোসাদ্দেক হুসেন।
অবিলম্বে কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বদলির কোনো কারণ আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। বদলির তালিকায় রয়েছেন—বিসিএস (কর) একাডেমির পরিচালক হাফিজ আল আসাদ ঢাকার কর অঞ্চল-২০, শেখ শামীম বুলবুল নরসিংদী কর অঞ্চল, ছায়িদুজ্জামান ভুঞা নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চল, বেগম হাসিনা আক্তার খান গাজীপুর কর অঞ্চল, মর্তুজা শরিফুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-৬, মোহা. আব্দুস সালাম ঢাকার কর অঞ্চল-১, মো. নাসেরুজ্জামান ঢাকার কর অঞ্চল-২, মো. মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১, মো. নাঈমুর রসুল চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২, ফখরুল ইসলাম খুলনা কর অঞ্চল, আশরাফুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-৩, মোহাম্মদ শাহ্ আলম ঢাকার কর অঞ্চল-৪, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত ঢাকার কর অঞ্চল-১১, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খুলনা কর আপিল অঞ্চল, মিজানুর রহমান ঢাকার কর অঞ্চল-১৫, মো. মঈনুল হাসান এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, ইভানা আফরোজ সাঈদ ঢাকার কর অঞ্চল-৮, তাহমিনা আক্তার ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-৩ ও শামীমা পারভীন এনবিআরের সিআইসি।
এর বাইরে বদলি হয়েছেন—সাহেদ আহমেদ চৌধুরী বৃহৎ করদাতা ইউনিটে, ফারজানা সুলতানা ঢাকার কর অঞ্চল-১৪, শামীমা আখতার ঢাকার কর অঞ্চল-১০, মৌসুমী বর্মণ কর পরিদর্শন অধিদপ্তরে, মো. আবদুর রাজ্জাক ঢাকার কর অঞ্চল-১৬, মো. জসীমুদ্দিন আহমেদ ঢাকার কর অঞ্চল-১২, তারিক ইকবাল ঢাকার কর অঞ্চল-৭, মো. ফারুকুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-২, মাসুম বিল্লাহ ঢাকার কর অঞ্চল-২১, সারোয়ার মোর্শেদ ঢাকার কর অঞ্চল-২৩, মাসুদুল করিম ভূঁইয়া ঢাকার কর অঞ্চল-১৮, মেহেদী হাসান ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-১, হাছিনা আক্তার চট্টগ্রাম কর আপিল অঞ্চল, শান্ত কুমার সিংহ ঢাকার কর অঞ্চল-১৭, রিগ্যান চন্দ্র দে বিসিএস (কর) একাডেমি, ফারজানা নাজনীন কুমিল্লা কর অঞ্চল, সুমন দাস এনবিআরে প্রথম সচিব, শেখ মো. কামরুজ্জামান কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, তাপস কুমার চন্দ বৃহৎ করদাতা ইউনিট, মো. মোশাররফ হোসেন দিনাজপুর কর অঞ্চল, মো. আব্দুল মালেক ঢাকার কর অঞ্চল-৫ ও আরিফুল হক রাজশাহী কর অঞ্চলে।
একই আদেশে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৪-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২-কে পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সোমবার ৯ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন—সিআইসি পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী; আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সোহেলা সিদ্দিকা; ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এর অতিরিক্ত কমিশনার সুলতানা হাবীব; সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু; মোংলা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান; চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির; ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিস খান; দিনাজপুর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এর যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া ও খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।
এগুলো সবাই গত মে ও জুন মাসে এনবিআরের চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। কেউ কেউ নেতৃত্বও দিয়েছেন। আন্দোলনটি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে হয়েছে। ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—দুটি বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে প্রায় দেড় মাস আন্দোলন চালান। ২৮ ও ২৯ জুন দেশে ব্যাপক কর্মবিরতি হয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার হয়। এরপর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু হয়। অবসরে পাঠানো এবং বরখাস্তের সংখ্যা এখন ৩০ ছাড়িয়েছে। ৩৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

