নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কাঁপছে। বিশেষ করে চাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, ডাল, মাছ, মাংস ও দুধের দামে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক উত্থান হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও এখন আর বাজারের চাপ সামলাতে পারছে না। অনেককেই এখন কম মূল্যে পণ্য কেনার জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সরাসরি মাঠে দেখা গেছে, টিসিবির লাইনে শুধুই নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, শহরের মধ্যবিত্ত কর্মজীবী ও বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও এখন বাজারের সাশ্রয়ী পণ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন খুবই স্বাভাবিক।
টিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ১২ আগস্টের বাজারদরের তুলনায় ৩৩টি পণ্যের মধ্যে ১৭টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৫টির দাম কমেছে এবং একটি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত আছে। বিশেষ করে চাল, আটা, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচে বড় অংশ জুড়ে।
সরকারি উদ্যোগে টিসিবি আগস্ট মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ মানুষকে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল এবং চিনি বিক্রি করা হবে। প্রতিজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন।
টিসিবি জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকে ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্য বিক্রি চলবে। দেশের অন্যান্য জেলার জন্যও নির্দিষ্ট স্থানে ১০ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। ৫৪ লাখ পরিবার বর্তমানে সক্রিয় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধা পেতে পারবে।
টিসিবির ট্রাকে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা জানান, বাজারদরের তুলনায় পণ্যের দাম কম হওয়ায় তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু টিসিবির ট্রাক থেকে কিছু মূল খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারায় খরচ সামলানো সম্ভব হচ্ছে।”
টিসিবির পণ্যবাহী শ্রমিক তুহিন জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। তারা মূলত সাপ্তাহিক বা মাসিক বাজারের জন্য এসেছেন। শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, “মেসে থাকায় আমরা বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারি না। তাই সপ্তাহে একবার লাইনে এসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনি।”
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী তেল, চিনি ও ডালের সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে, যাতে বাজারে সাধারণ মানুষের বোঝা কমে।”
বাজারে ক্রেতাদের চাপ ও দামের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতে সরকারিভাবে টিসিবির এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে মাছ, মাংস বা অন্যান্য তাজা সবজি এখনও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পাওয়া যাচ্ছে না, যা মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

