শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি লিজিং কোম্পানির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে আটটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকায় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রাইম ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে বিনিয়োগকারীরা মূলধন ফেরত পাওয়ার আশা কমই করতে পারেন। কিছু প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদও নেই। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পুঁজির ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
বিলুপ্তির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে বহিঋণদাতারা, এরপর আমানতকারীরা, তারপরে ডিবেঞ্চার হোল্ডার ও অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারহোল্ডাররা পাওনা পাবেন। সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা তালিকার শেষ অবস্থানে থাকায় তাদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া প্রায় সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দায়ী পরিচালক ও স্পন্সরদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শেয়ারবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বড় ধরনের পতনে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে শেয়ারের দাম ১৯ থেকে ৩৩ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে অনেক শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে নেমেছে, এমনকি কিছু শেয়ার ২ টাকারও নিচে লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। স্পন্সর-পরিচালকদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, বিলুপ্তি প্রক্রিয়া ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাক্ট ২০২৩ অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব। তবে বিনিয়োগকারীরা কত টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।’
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। বহু বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অনিয়ম ও সুশাসনের অভাবে পতিত হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন প্রশান্ত কুমার হালদারের কেলেঙ্কারি, যেখানে চারটি এনবিএফআই থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছিল।

