চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৪ সালে কনটেইনার পরিবহনের দিক থেকে বিশ্বের ১০০টি প্রধান বন্দরের তালিকায় এক ধাপ পিছিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করেছে।
যদিও ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর তালিকায় ৬৭তম স্থানে ছিল। ২০২৪ সালে অবস্থান নেমে ৬৮তম স্থানে গেছে। এর পরিমাণে সম্প্রতি বন্দরটি ২ লাখ ২৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস। ২০২৪ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএসে।
বছরের ব্যবধানে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় কম বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এক ধাপ পিছিয়েছে। লয়েডস লিস্ট শুধুমাত্র কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণের ভিত্তিতে তালিকা প্রকাশ করে; বন্দরের সেবার মান বিচার করে না। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬৭তম স্থান দখল করার পরিবর্তে সৌদি আরবের দাম্মাম পোর্ট সেই স্থান নিয়েছে। দাম্মাম ৩২ লাখ ৯০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা চট্টগ্রামের তুলনায় ১৫ হাজার বেশি।
লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ১০০ বন্দরে মোট ৭৪ কোটি ৩৬ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে চীনের সাংহাই বন্দর ৫ কোটি ১৫ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং করে শীর্ষে রয়েছে। সিঙ্গাপুর বন্দর ৪ কোটি ১১ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং করে দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থান চীনের নিংবো-ঝুশান ও শেনজেন বন্দরের। তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে চিলির সান অন্তোনিও বন্দর, ১৮ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে। ২৮ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ২৯ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এনসিটিতে ৫ হাজার ১৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান আরও এগোবে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘২০২৪ সাল থেকে একের পর এক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ডলার সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সহ বিভিন্ন কারণে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক গতিতে চলেনি। দেশের অর্থনীতি ভালো থাকলে বন্দর কার্যক্রমও ঠিক থাকে।’

