মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার ৭৫তম জন্মদিনে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান। সম্প্রতি দেশ দুটির মধ্যে শুল্ক নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছিল। এই ফোনালাপকে অনেকেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্প পরে এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, মোদি ‘দারুণ কাজ করছেন’ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহায়তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। মোদি ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, দুই দেশই তাদের অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এটাই ছিল দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ। ট্রাম্প জানান, ভারতের ওপর আরোপিত শুল্কের অর্ধেক ছিল দিল্লির রাশিয়ান তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য জরিমানা। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশীয় জ্বালানি চাহিদার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তারা এই শুল্ককে ‘অন্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। উভয় দেশের মধ্যে তিক্ত কথাবার্তা ও বিবাদের কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য আলোচক ব্রেনডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি দল দিল্লিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি জুলাইয়ে ৮.০১ বিলিয়ন ডলার থেকে আগস্টে ৬.৮৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
ভারত জানায়, গত মঙ্গলবারের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত বাণিজ্য আলোচনা নয়। এটি ছিল কেবল ‘আলোচনা’, যেখানে দেখা হচ্ছিল কীভাবে একটি চুক্তি করা যায়। ট্রাম্প ভারত সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দেশের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে তিনি কোনো ছাড় দেননি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আহ্বান জানান, যাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করতে প্রভাবিত করা যায়। ওই সময় ভারত জানিয়েছিল, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বড় অংশ চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে।
একই সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ‘বাণিজ্য বাধা সমাধানের জন্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছে’ এবং তিনি তাদের বাণিজ্য আলোচনার ‘সফল সমাপ্তি’ আশা করছেন। ট্রাম্পের আশাবাদকে সমর্থন জানিয়ে মোদি বলেন, দুই দেশ ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং স্বাভাবিক অংশীদার’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলসমূহ এই আলোচনাগুলো যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার জন্য কাজ করছে। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়েও আগ্রহী হয়ে বসে আছি।’ মাসের শুরুতে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্ক’কে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। মাঝে মাঝে কিছু মুহূর্তে টানাপোড়েন হতেই পারে।’

