আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ। সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের এই সময়ে বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া বাজেট প্রস্তাবনায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফির ওপর থাকা ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর কর্পোরেট কর ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী তামিম হোসেন।
সংস্থাটির মতে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি, নগদ সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
পোস্ট-এলডিসি বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি জোরদারে শুল্ক ও প্যারাট্যারিফ কাঠামো যৌক্তিক করার সুপারিশ করেছে সিপিডি। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-এর বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কহার নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে প্রত্যক্ষ ভর্তুকি কমানোর কথাও বলা হয়েছে। বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে ব্যবসা নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, কর ও নিয়ন্ত্রক সেবাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিপিডির প্রস্তাবে আর্থিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে ঘাটতি অর্থায়নে ভারসাম্যপূর্ণ উৎস ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বড় আকারের নতুন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে এসে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিতে কর কমানোর আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জিডিপির অন্তত ১ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেছে সিপিডি। কৃষিখাতে সমন্বিত ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ ও স্মার্ট কার্ড চালুর মাধ্যমে ভর্তুকি ও সহায়তা কার্যক্রম এক প্ল্যাটফর্মে আনার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যখাতে জনবল বাড়ানো, গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক নিয়োগ জোরদার করা এবং শিক্ষা খাতে সব ধরনের উপবৃত্তি বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি।

