রাজস্ব আদায়ে গতি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঝুঁকিভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় ৮৮ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থায়, যেখানে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জানান, অতীতে অডিট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনার সুযোগ থাকায় করদাতা হয়রানির অভিযোগ উঠত। নতুন অটোমেটেড পদ্ধতি চালুর ফলে সেই অভিযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতাদের মধ্যে এনবিআরের প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক ধারণা বাড়বে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দুই ধাপে আয়কর রিটার্নগুলো অডিটের জন্য বাছাই করা হয়েছে। প্রথম ধাপে গত জুলাই মাসে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন নির্বাচন করা হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও ৭২ হাজার ৩৪১টি রিটার্ন অডিটের আওতায় আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর সার্কেল থেকে সর্বোচ্চ ২০০টি এবং সর্বনিম্ন ২০টি রিটার্ন বাছাই করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ দীর্ঘদিনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, অডিটের জন্য নির্বাচিত টিআইএন নম্বরগুলোর তালিকা ইতোমধ্যে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। করদাতারা অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই যাচাই করতে পারবেন তাদের রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না।
সিভি/এম

