স্বাস্থ্য গবেষণায় বাজেট বরাদ্দে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। ভারতের তুলনায় এই খাতে বাংলাদেশের বাজেট প্রায় ১৯ গুণ কম। শ্রীলঙ্কার তুলনাতেও বাংলাদেশ চার গুণ পিছিয়ে।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমআরসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। তিনি জানান, ভারতের গবেষণা কাউন্সিল আইসিএমআরের বার্ষিক বাজেট ২৮৩.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জনসংখ্যা অনুযায়ী মাথাপিছু বরাদ্দ ০.১৯ ডলার। তুলনায় বিএমআরসির বাজেট মাত্র ১.৮২ মিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ০.০১ ডলার। শ্রীলঙ্কার জাতীয় গবেষণা পরিষদের (এনআরসি) বাজেট ০.৮৬ মিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু ০.০৪ ডলার।
অধ্যাপক সায়েবা আক্তার বলেন, “এ ধরনের চরম বৈষম্য বাংলাদেশের গবেষণার সক্ষমতা হ্রাস করছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থানও দুর্বল হচ্ছে।” সভায় গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যখাতের গবেষণায় শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬) ছাত্র অনুদানের জন্য ৫৮২টি আবেদন জমা পড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫০। গবেষক অনুদানের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৭১১টি আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের (৩০৬টি) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ডা. সায়েবা বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, অনুদান প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং সামগ্রিকভাবে গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলেই এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে দেশে আরও মানসম্মত গবেষণা প্রত্যাশিত।”
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের দায়িত্বে) মাহবুব আলম এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

