দেশে এখন ডলারের সংকট নেই। রিজার্ভ বেড়েছে, রেমিট্যান্সের প্রবাহও শক্ত অবস্থানে। ব্যবসায়ীরাও নিয়মিত আমদানি করছেন। তবু বাজারে ডলারের দাম কমছে না। এতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম কমছে না। ফলে বেশি খরচে এলসি খুলতে হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। তবে রপ্তানিকারক ও ব্যাংকাররা ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরে ডলার সংকটে বিপাকে পড়েছিল অর্থনীতি। দাম বাড়ে আমদানি পণ্যের, কমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ব্যাংকগুলো ডলার জোগান দিতে হিমশিম খাওয়ায় আমদানিকারকেরা সীমাহীন সমস্যায় পড়েন।
কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই পরিস্থিতি বদলায়। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। বৈদেশিক দায় শোধ করার পরও বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক উল্টো ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডলার এখনো ১২২ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয়ে এলসি খুলতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘এখন পর্যাপ্ত ডলার আছে কিন্তু আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু কমেনি। ভোক্তারাও সুফল পাচ্ছে না।’ খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু ডলারের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশ থেকে এত ডলার আসার পরও দাম কেন বাড়ছে তা সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।’
ব্যাংকাররা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি বাড়ালে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, এতে রেমিট্যান্স কমে হুন্ডি বাড়ার ঝুঁকি আছে। খাতুনগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ মো. আবু বকর সিদ্দীক বলেন, ‘ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে আচরণ করলে আর বাজারে স্বচ্ছতা এলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে।

