নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদারের সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও খেলাপি ঋণ শোধ করবে সরকার। এ জন্য তিনি গত শনিবার কারাগার থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে স্বাক্ষর করেছেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানানো হয়, গুলশান রোড ৭-এর প্লট-৬, আশুলিয়ার তায়্যবপুর মৌজায় সাততলা ভবন ও পাঁচ বিঘা জমি, নারায়ণগঞ্জের চর চেংগাকান্দি মৌজায় ১০ বিঘা জমি, রাজউকের কয়েকটি প্লট এবং প্রায় ৮৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির তালিকায় রয়েছে।
এক সূত্র জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কারাগারের ফটকে নাজরুলের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। নাসা গ্রুপের কারখানা বন্ধ থাকায় জুলাই মাসের বেতন পরিশোধ হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২২টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ৮ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছে। বেতন না পেয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রমিকরা আন্দোলন চালাচ্ছেন।
সরকার এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চেয়ারম্যান নাজরুলসহ পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট বাতিল হতে পারে। অন্যদিকে, কারখানা পুনরায় চালুর জন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সরকারের মধ্যস্থতায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার ঋণ চুক্তির উদ্যোগ চলছে। তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটিকে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে কমপক্ষে ১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮৭ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।
১৯৯০ সালে নাসা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন নাজরুল ইসলাম মজুমদার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে তিনি প্রায় ১৭ বছর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একসময় এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানও ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক নাজরুল ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামকে এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করে। এর আগে ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁদের সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দেয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বা ৩০ লাখ ডলার যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন। সিআইডির দাবি, নাসা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিরোজা গার্মেন্টসের নামে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের মাধ্যমে এই টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

