বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়েছেন, আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার জন্য পর্যাপ্ত ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে দাম স্থিতিশীল থাকে।
গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দফতরে বসুন্ধরা, স্কয়ার, টি কে গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, স্বপ্ন, মেঘনা, নাবিল গ্রুপসহ শীর্ষ ২০ শিল্পগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এখন আর আমদানিতে কোনো শর্ত নেই এবং ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, রমজান সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধ থেকে পর্যাপ্ত আমদানি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।
গভর্নরের বার্তা ছিল স্পষ্ট—ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করতে পারবেন। তবে এলসির বিল নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, বিল পরিশোধে দেরি হলে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ পড়ে এবং বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে দেশের ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যবসায়ীরা দুটি দাবি উত্থাপন করেছেন—আমদানি মনিটরিং সিস্টেমের জটিলতা তুলে দেওয়া এবং একক গ্রাহকের ঋণসীমা (সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) শিথিল করা।
এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমদানি এলসি মনিটরিং ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সঠিক মূল্য যাচাই হয় এবং বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং রোধ করা যায়। আর সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট শিথিল করতে হলে ব্যাংকের মূলধন বাড়াতে হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
বৈঠক শেষে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, দেশের ভোগ্যপণ্যের মজুত, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গভর্নর চান, আমদানি বাড়লেও যেন মূল্যস্ফীতি না বাড়ে। এজন্য বাজার বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, এলসি জটিলতা ও ভোগ্যপণ্যের সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গভর্নর সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রমজানে খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
স্বপ্ন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ডলারের বাজার এখন স্থিতিশীল এবং কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন রিজার্ভ ধরে রেখে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামাতে চাইছে। একই সঙ্গে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখার দিকেও নজর দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে, যাতে বাস্তব চিত্র বোঝা যায় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট নেই, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার কিনছে।

