দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকুর ছেলে এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। সম্প্রতি পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় এই মামলা করা হবে।
দুদকের অভিযোগ বলছে, শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের সময় তার ছেলে আসিফ শামসের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেয় দুদক। তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশের পর গত ১৬ জানুয়ারি কনস্টেবল-৬৪৮ জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে আসিফ শামসের স্থায়ী ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরম পৌঁছে দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য তাকে ২১ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই সময়সীমা শেষ হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি। ফলে সময়মতো সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
এদিকে শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। পাশাপাশি টুকুর অপর ছেলে এস এম নাসিফ শামস ও তার স্ত্রী মুমতাহিনা মোস্তফার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়টি বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট শামসুল হক টুকুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে ও তার দুই ছেলেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার ঘটনায় এবার সরাসরি আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলার পথ খুলল। দুদকের আইন অনুযায়ী, এই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে আসিফ শামসের সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়া দুদকের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার, যা কোনো ব্যক্তির আয় ও সম্পদের সঙ্গতি যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়। আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণ করে যে আইনের চোখে কেউ বড় বা ছোট নয়, সময়মতো সম্পদের হিসাব দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, এই মামলা কত দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং এর মাধ্যমে অন্য কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে কিনা।

