দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় দেশে সৌর বিদ্যুতের কিলোওয়াটপ্রতি উৎপাদন খরচ গড়ে ২১ শতাংশ কমেছে। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পাঁচ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন তা বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিশেষ আইনের আওতায় সমঝোতার ভিত্তিতে প্রকল্প দেওয়া হতো। উদ্যোক্তারা তখন পছন্দমতো দাম পেত। অন্তর্বর্তী সরকার সেই বিশেষ বিধান বাতিল করে দরপত্র পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে কিলোওয়াটপ্রতি গড় ব্যয় ১০ দশমিক ৪৭ সেন্ট থেকে নেমে এসেছে আট দশমিক ২৭ সেন্টে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় লোকদের প্রকল্প দিয়েছিল। তখন উদ্যোক্তারা ইচ্ছামতো দাম আদায় করত। দরপত্রের কারণে এখন খরচ কমছে। সরকারের ভর্তুকিও কমবে। তারা মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রতিযোগিতার কারণে দাম কমেছে। আগের সরকার বেশি দামে প্রকল্প দিয়েছে। এতে দুর্নীতি হয়েছে। তিনি জানান, এখন দ্রুত উদ্যোক্তাদের হাতে প্রকল্পের কাজ তুলে দেওয়া হবে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে চারটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ক্ষমতা পাঁচ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট। ঢাকা ও খুলনার দরপত্র এখনও খোলা হয়নি। তবে উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটের দরপত্র খোলা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব জমা পড়েছে।
দর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গে কিলোওয়াটপ্রতি ৭ দশমিক ৮৯ সেন্ট, চট্টগ্রামে ৭ দশমিক ৯৫ সেন্ট, ময়মনসিংহে ৮ দশমিক ৮৮ সেন্ট এবং সিলেটে ৯ দশমিক ০৬ সেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ আগের সরকারের সময়ে বিশেষ আইনে উত্তরবঙ্গে ১০ দশমিক ৪২ সেন্ট, চট্টগ্রামে ১২ দশমিক ১০ সেন্ট, ময়মনসিংহে ৯ দশমিক ৯৩ সেন্ট এবং সিলেটে ৯ দশমিক ৮৮ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল। কেন্দ্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়:
- নোয়াখালীর সুধারামে ১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের জন্য দর ৭ দশমিক ৪৯ সেন্ট
- মৌলভীবাজারের ২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৭ দশমিক ৬৭ সেন্ট
- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ২০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৭ দশমিক ৭৫ সেন্ট
- একই স্থানের ৪৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৭ দশমিক ৭৭ সেন্ট
- পাবনার ১৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৭ দশমিক ৮৯ সেন্ট
- চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ১৮ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৭ দশমিক ৯৭ সেন্ট
- লোহাগাড়ার ৩০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮ দশমিক ৮৭ সেন্ট
- কাপ্তাইয়ের ২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮ দশমিক ৮৮ সেন্ট
- ময়মনসিংহের ভালুকার ৪৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮ দশমিক ৮৮ সেন্ট
- মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ১৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৯ দশমিক ২৯ সেন্ট
বিপ্পার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম রাব্বানী বলেন, দেশি কোম্পানির সক্ষমতা বেড়েছে। এখন অনেক দেশি প্রতিষ্ঠান ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির দামও কমেছে। দরপত্রের কারণে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায় খরচ আরও কমেছে।

