বিশ্বে বৈষম্য বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি কমছে, ঋণের চাপ বেড়েই চলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বিশ্ব নেতাদের সাহসী ও সমন্বিত নীতি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “জরুরি পদক্ষেপ না নিলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কম প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ ঋণে আটকে যাবে।”
জর্জিয়েভা বলেন, গত এক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জনসংখ্যার ধারা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য-নীতির রদবদল বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক ধাক্কা সামলেও আগামী দিনগুলো তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস মাত্র ৩ শতাংশ। এটি যুদ্ধপরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি গড় ৩.৭ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে।”
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জর্জিয়েভা বলেন, “দেশগুলোকে এখনই স্থিতিশীলতা রক্ষা, ঋণ টেকসই রাখা ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সময় বদলাচ্ছে, নীতিনির্ধারণ জটিল হচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সুযোগ লুকিয়ে আছে। এখনই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আইএমএফ সম্প্রতি সদস্য দেশগুলোর ঋণের সুদ কমাতে চার্জ ও সারচার্জ নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বছরে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। এতে সদস্য দেশগুলোর চাপ কমবে এবং আইএমএফের আর্থিক সুরক্ষাও শক্ত হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রথমেই প্রতিটি দেশকে নিজেদের অর্থনীতি গোছাতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, স্থানীয় প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করা ও ভবিষ্যতের ধাক্কা মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা পুনর্গঠন জরুরি। আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার ছাড়া স্থায়িত্ব আসবে না। তিনি যোগ করেন, “অনেক চ্যালেঞ্জ এখন জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তাই দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক নীতি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।”
জর্জিয়েভা বলেন, “আইএমএফ নিজের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে। ব্যালান্স শিট দৃঢ় এবং সুরক্ষা তহবিল লক্ষ্যমাত্রার বেশি। করোনার সময় যে ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছিল, তা এখনো বজায় রয়েছে। এতে সংকটে থাকা দেশগুলো যথেষ্ট সহায়তা পেতে পারে। তিনি আরও জানান, দরিদ্র দেশগুলোর জন্য দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রবৃদ্ধি তহবিল সংস্কারের মাধ্যমে সহায়তা সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
জর্জিয়েভা বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক নিরাপত্তার শর্ত তৈরিই আমাদের মূল দায়িত্ব। বৈষম্য বাড়া এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন চাপে থাকলেও সাহসী নীতি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি শেষ করেন, “সময় বদলায়, লক্ষ্য অপরিবর্তিত। সঠিক নীতি প্রয়োগে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, টেকসই ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়া সম্ভব।”

