গত ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েন, ইথার ও সোলানাসহ প্রধান তিনটি ক্রিপ্টোকারেন্সির লিকুইডেশন বা বাধ্যতামূলক বিক্রি ছুঁয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়। শুক্রবার এই শুল্ক ঘোষণার পরই ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়। একদিনেই প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজার থেকে গায়েব হয়ে যায়। খবর সিএনএন।
ডেটা বিশ্লেষণ সংস্থা কয়েনগ্লাস জানিয়েছে, এটি ‘ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লিকুইডেশনের ঘটনা’। সংস্থার এক্স-এ পোস্ট করা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিটকয়েন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, ইথার ৪ বিলিয়ন ডলার এবং সোলানা ২ বিলিয়ন ডলার। গত শুক্রবার মার্কিন শেয়ারবাজারেও বড় ধস নামে। নাসডাক এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতনের মুখে পড়ে।
বিটকয়েনের দাম গত পাঁচ দিনে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে বিটকয়েনের দাম ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬১৬ ডলার, যদিও দিনের শুরুতে এটি নেমে গিয়েছিল ১ লাখ ৩ হাজার ডলারে। ইথারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ ডলার থেকে কমে ৩ হাজার ৭৪৩ ডলারে দাঁড়ায়, যা প্রায় ১৪ শতাংশ পতন। সোলানার দামও ২২৩ ডলার থেকে নেমে আসে ১৭৮ ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস।
চলতি বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টো বাজারে বড় উত্থান ঘটিয়েছিলেন। একসময় বিটকয়েনকে ‘ভিত্তিহীন কল্পনা’ বলে সমালোচনা করলেও এখন তিনি প্রকাশ্যে ক্রিপ্টো সমর্থন করছেন। নিজের মিম কয়েন চালু করার পাশাপাশি ‘জাতীয় কৌশলগত ক্রিপ্টো রিজার্ভ’ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অনুমোদন দিয়েছেন, যাতে মার্কিন নাগরিকদের অবসর তহবিল ৪০১(কে)-তেও ক্রিপ্টোকারেন্সি অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই ঘোষণার পরই গত সপ্তাহে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল।

