এ বছর থেকে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কার্যকর হচ্ছে। এর আওতায় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে অনুমোদন দিতে পারবে। তবে এ সীমার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বা একনেকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সরকার এই নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আগের তুলনায় এখন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন—দুটিই কম হয়েছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন যাচাই করে সীমিতসংখ্যক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে অনুমোদিত অনেক প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নতুন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে সময় ও ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আগের এডিপির তুলনায় ১৩.০৪ শতাংশ কম। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোর প্রকল্পসহ মোট আরএডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এ আরএডিপির ৬৪ শতাংশ বা ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বৈদেশিক উৎস থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। খাতভিত্তিক বরাদ্দে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, গৃহায়ণ এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাত সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

