কম রাজস্ব আদায় এবং বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটাতে আবারও ব্যাংক ঋণের ওপর ঝুঁকছে সরকার। এতে চাপ বেড়েছে ব্যাংকিং খাতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্ররা।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ঋণ নিয়েছে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। এটি এ অর্থবছরের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রার ৫৭.৪৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই লক্ষ্য অর্ধেকের বেশি পূরণ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ নেওয়ার হার বেড়েছে কয়েক গুণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার নিট ব্যাংক ঋণ নিয়েছিল মাত্র ৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরে চার দিন আগেই ঋণ নেওয়া হয়েছে প্রায় ৬১৯ শতাংশ বেশি। যদিও চলতি অর্থবছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫০৩ কোটি টাকা কমে গিয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ৩০ জুনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ছয় মাস চার দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের স্থিতি গত অর্থবছরের ৩০ জুনে ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। ফলে এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৬ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকে ৫৪ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন ব্যয় কম থাকায় এবং রাজস্ব আয়ের ভালো প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির কারণে সরকারের ঋণ চাহিদা কম ছিল। তবে বর্তমানে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বৃদ্ধি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ, নির্বাচনি ব্যয়, ভর্তুকি এবং সুদ পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আবারও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়েছে।

