খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা আগের মতোই বহাল থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
গতকাল রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ মোট ১৫টি কর্মসূচির নতুন ভাতা হার ও পরিসর নির্ধারণ করা হয়। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে পেনশন খাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। পেনশন বাদে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বরাদ্দ ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। যা মোট দেশজ উৎপাদনের ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বৈঠকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানী ভাতা এবং ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে মোট জেলে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ লাখ।
অর্থ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন মাসে ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন। আর ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার ব্যক্তি মাসে ১ হাজার টাকা করে পাবেন।
একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ লাখ। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার নারী মাসে ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন। ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার নারী পাবেন মাসে ১ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা দেড় লাখ বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসে ৯০০ টাকা ভাতা পাবেন। আর ১৮ হাজার ১০০ জন পাবেন মাসে ১ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার সব স্তরে ৫০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির হার নতুনভাবে ঠিক করা হয়েছে।
ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদ্রোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

