উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা ২০২৬–এর রুটিন অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময়সূচি প্রকাশ করে। ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা।
পরীক্ষার সূচনা হবে বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) দিয়ে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষা চলবে এবং শেষ হবে ৮ আগস্ট। শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময়জুড়ে চলবে এইচএসসি পরীক্ষার মূল ধাপ।

রুটিনে নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রথম শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শিফটও রাখা হয়েছে, যা বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো—পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনায় সামান্য গাফিলতিও যেন বড় সমস্যায় পরিণত না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারও আগের মতোই প্রশ্নপত্রের কাঠামো দুই ভাগে বিভক্ত রাখা হয়েছে। প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশ, এরপর সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশ।
৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ মিনিট। আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল অংশের জন্য সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এই কাঠামোটি শিক্ষার্থীদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনার একটি বড় পরীক্ষা, কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরে বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখার দক্ষতা—দুইটিই এখানে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
রুটিন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয়ে গেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সময়। এখন আর নতুন করে পড়া শুরু করার চেয়ে বেশি জরুরি হলো—পূর্বে যা পড়া হয়েছে তা ঝালিয়ে নেওয়া, দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা এবং সময় ধরে অনুশীলন করা।
বিশেষ করে এমসিকিউ অংশে দ্রুততা ও নির্ভুলতা যেমন জরুরি, তেমনি সৃজনশীল অংশে প্রয়োজন গভীর বোঝাপড়া ও সুসংগঠিত লেখার দক্ষতা। অনেক শিক্ষার্থী এখানেই পিছিয়ে পড়ে—সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে।
প্রতিবছর দেখা যায়, পরীক্ষার ঠিক আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু রুটিন হাতে পাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা গেলে এই চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এই সময়টাতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া, আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করা এবং নিজের দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দেওয়া—এই তিনটি কৌশল সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

