রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও মেধাতালিকা পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভাইভা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা একজনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে নিয়োগ বোর্ডের এক বিশেষজ্ঞ সদস্য চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষরই করেননি। এরপরও সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা যায়, উর্দু বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য প্রথমে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে নতুন করে গত বছরের ৩০ এপ্রিল তিনটি স্থায়ী পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৭ আগস্ট লিখিত পরীক্ষায় ৪৩ জন অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ নয়জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকার কথা থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে ছয়টি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৮ জনকে ভাইভায় ডাকা হয়।
মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রার্থীদের একাডেমিক ফলাফল ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় ছয়জনের একটি মেধাতালিকা তৈরি করে নিয়োগ বোর্ড। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এ সময় চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের সময় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ।
নিয়োগ বোর্ডের এক বিশেষজ্ঞ সদস্য বিষয়টি লক্ষ্য করে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত ক্রম বদলে দেওয়া হয়েছে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই। তিনি চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর না করে শুধু উপস্থিতির স্বাক্ষর দিয়ে ফিরে যান। তবে এসব আপত্তি উপেক্ষা করেই গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদন পায়।
বাদ পড়া প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁকে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম। তিনি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এমন পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং যদি বিশেষ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তা আগে থেকেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল নয়—জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর ডিগ্রি ও অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে বাদ পড়া প্রার্থীর বয়স বা যোগ্যতা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কারণ তাঁর বয়স তুলনামূলকভাবে কম এবং উচ্চশিক্ষায় ভালো সাফল্য রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আগের প্রশাসনের সময় নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ গোষ্ঠীর প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং এটিকে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তাদের নজরে আনুষ্ঠানিকভাবে এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ সদস্যের আপত্তি এবং স্বাক্ষর না করার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি মেধাবীদের প্রতি অবিচার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

