জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। টাইমস হায়ার এডুকেশনের সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিংস ২০২৬-এ বিশ্বের সেরা ১০০ টেকসই বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবারের মূল্যায়নে বিশ্বের ১ হাজার ৬০৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ৮৭তম। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক উদ্যোগ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ভূমিকার ভিত্তিতে এ রেটিং প্রকাশ করা হয়। ফলে এ অর্জন শুধু ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জন্য নয়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেটিংয়ের বিভিন্ন সূচকের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল সাফল্য এসেছে এসডিজি ১৭ বা ‘লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব’ বিভাগে। এ সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্ঞান বিনিময় এবং বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি সূচকে উল্লেখযোগ্য অবস্থান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসডিজি ৪ বা মানসম্মত শিক্ষা সূচকে ড্যাফোডিলের অবস্থান বিশ্বে ১২তম। এসডিজি ৮ বা শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সূচকে রয়েছে ৪৮তম স্থানে। আর এসডিজি ১০ বা বৈষম্য হ্রাস সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ৬৮তম।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই অর্জন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার, গবেষণা কার্যক্রম, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সমাজসম্পৃক্ত কর্মসূচির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই উন্নয়নভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হিসেবে ড্যাফোডিলের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
এ সাফল্যের পেছনে অবদান রাখায় শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং দেশি-বিদেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গবেষণা, সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ, শিল্পখাতের সহযোগিতা এবং নীতিগত অবদান এই বৈশ্বিক স্বীকৃতির ভিত্তি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতেও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং টেকসই সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল বৈশ্বিক নাগরিক তৈরির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

